অফিসে অনুপস্থিত, হাজিরা খাতায় আগাম সই: নারায়ণগঞ্জে ২ এসিল্যান্ডসহ ২০ জনকে শোকজ

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং হাজিরা খাতায় আগাম সইয়ের অভিযোগে দুই সহকারী কমিশনারসহ (ভূমি) ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (রাজস্ব শাখা ও রাজস্ব মুন্সিখানা শাখা) জাকিয়া সরওয়ার লিমা জানান, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০ জন, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ জন এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের ২ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে তিনি নিজেই সই করেছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ভূমি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেখানে পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় তাদের আগের দিনই সই পাওয়া গেছে। বিষয়টিকে গর্হিত অপরাধ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ‘২ (খ)’ ধারার আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া, যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়াকে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে অনুপস্থিতির কারণ জানাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার এবং ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে সই করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া।

এর আগে আজ সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। একই চত্বরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের কার্যালয় এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থলে উপস্থিত হননি। এ সময় তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে সেখানে উপস্থিত হন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া। এর কিছুক্ষণ পর ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা সেখানে আসেন।

আকস্মিক পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি এবং কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় আগাম সইয়ের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।

এ ঘটনায় দুই এসিল্যান্ড ছাড়াও কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম (রূপম), অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন এবং গাড়িচালক নাদিম হায়দার।

সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ এবং চেইনম্যান রফিকুল ইসলামও নোটিশ পেয়েছেন।

এ ছাড়া, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, ‘ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের হাজিরা খাতায় আগাম সই থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘সবাই হয়তো দোষ করেননি। তবে, অনেকে আগাম সই করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।’

Related Articles

Latest Posts