সরকারি চাকরিতে বেতন বৃদ্ধি: যা বললেন বিশেষজ্ঞ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা দিয়েছে সরকার। এর ফলে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি সুবিধা বাড়ছে ৯ লাখ পেনশনভোগীরও। নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজস্ব আদায়ের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিপুল ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত সরকারের একটি ‘সাহসী’ ও যৌক্তিক পদক্ষেপ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা ১১ বছর ধরে একই বেতন স্কেলে কাজ করছেন। এ সময়ে তাদের বেতন সামান্য বাড়লেও মূল্যস্ফীতি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ফলে এত বছর ধরে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করলে আমি বলব, সরকার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক—উভয় দিক থেকেই একটি সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে।’

কত বাড়ছে বেতন

মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ছে। আর ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বেতন বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। এর ফলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকায় দাঁড়াবে। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

গত জুলাই থেকেই নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও, চাকরিজীবীরা বর্ধিত এই বেতন একসঙ্গে হাতে পাবেন না। আর্থিক চাপ এড়াতে সরকার ধাপে ধাপে চার পর্যায়ে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের ফলে অর্থনীতিতে চাপ বা নতুন করে মূল্যস্ফীতি বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন পে-স্কেল পাওয়ার আগেই দেশে দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি দেখা গেছে। তাই শুধু বেতন বৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমনটি ভাবার কারণ নেই।

তিনি বলেন, বেতন বৃদ্ধি আসল বিষয় নয়, বরং সরকার কীভাবে সামগ্রিক অর্থনীতি পরিচালনা করছে, সেটিই বড় কথা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে পারলে মূল্যস্ফীতি এমনিতেই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

গতকালের প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পে-স্কেল সংশোধন করা হয়। কিন্তু গত ১২ বছরে এর কোনো পরিবর্তন হয়নি। এতে সরকারি চাকরিজীবীরা জীবনযাত্রার মান পড়ে গিয়েছিল।

নতুন পে-স্কেলে ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী অন্তর্ভুক্ত হবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। পরবর্তীতে এ নিয়ে সিদ্ধান্ত হলে আপনারা জানতে পারবেন।’

সরকারি চাকরিজীবীরা ১১ বছরে দুটি পে স্কেল পেলেও সাংবাদিকেরা ১৬ বছরে নতুন কোনো ওয়েজবোর্ড পাননি—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নাসিমুল গনি বলেন, সরকারি এই পে স্কেলের কারণে সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিও গতি পাবে, এটি আর আটকে থাকবে না।

Related Articles

Latest Posts