‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’-এর খাবার বগিতে এক নারীকে (৪২) ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর ওই ট্রেনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনা তদন্তে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা হলেন—সহকারী টাউন সাব-ইন্সপেক্টর (এটিএসআই) খোকন ইসলাম এবং তিন কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা, ফজলে রাব্বী ও আশিকুল রহমান।
ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, কর্তব্যে অবহেলা ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এই চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. আবদুল আউয়াল ভূঁইয়া দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এই ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং রেলওয়ে পুলিশ দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ ছাড়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের ক্যাটারিংয়ের চুক্তি ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
গত সোমবার সিরাজগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ওঠেন ৪২ বছর বয়সী ওই নারী। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারীর কাছে মাদক আছে—এমন অভিযোগ তুলে ট্রেনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্য তাকে খাবার বগিতে নিয়ে যান। সেখানে তারা ওই নারীকে যৌন হয়রানি করেন। খাবার বগির কর্মচারী আবু বক্কর সিদ্দিক তাকে ধর্ষণ করেন।
এ ঘটনায় ওই নারী সান্তাহার রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওসি দুলাল উদ্দীন জানান, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে গতকাল মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
