টানা দুই ম্যাচে হারের পর এখন ভারতের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামতে হবে তরুণ ফুটবলারদের। তবে এবার ডাগআউটে থাকবেন না সেই কোচ, যার অধীনে গত দুই মাস ধরে দলটি এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়েছিল। তাসখন্দে বৃহস্পতিবার এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে বড় হারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেরার্ড জোন্সের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন।
জোন্সকে বরখাস্ত করার বিষয়টি আজ ‘দ্য ডেইলি স্টার’কে নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। জোন্সকে পাঠানো চিঠিতে বাফুফে জানিয়েছে, গত ৯ জুন ২০২৬ সই করা চুক্তির বরখাস্ত-সংক্রান্ত ধারার আওতায় ‘অবিলম্বে কার্যকর’ হিসেবে তাঁর চাকরি বাতিল করা হয়েছে।
একই চিঠিতে জোন্সের কাছে থাকা বাফুফের সব ধরনের সম্পদ বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের ম্যানেজার সামীদ কাসেমের কাছে বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিচয়পত্র, চাবি, বিভিন্ন নথি, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী।
চুক্তি অনুযায়ী জোন্সের পাওনা থাকা সব আর্থিক হিসাবও মিটিয়ে দেবে বাফুফে। পাশাপাশি তার পছন্দের গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বিমান টিকিটের ব্যবস্থাও করবে ফেডারেশন।
শুধু তাই নয়, টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোনো খেলোয়াড় বা কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ কিংবা ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে জোন্সকে। তবে বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার সামীদ কাসেম এবং সহকারী দলীয় ম্যানেজার অয়ন মল্লিকের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
জোন্সকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে বাংলাদেশের ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই হেরেছে ইয়াং টাইগার্সরা।
সোমবার স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হারের পর বৃহস্পতিবার সিরিয়ার বিপক্ষে আরও বড় ব্যবধানে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে শুধু জয় পেলেই হবে না, এশিয়ান কাপের মূলপর্বে যেতে হলে উজবেকিস্তান, ভারত ও সিরিয়ার ম্যাচগুলোর ফলও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে। অর্থাৎ এখন তাদের সামনে জটিল সমীকরণ।
বাছাইপর্বের প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ আট দল এবং সেরা সাত রানার্সআপ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা পাবে।
অথচ এবারের বাছাইপর্বকে ঘিরে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট। চলতি বছরের শুরুতে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার এশিয়ান কাপের মূলপর্বে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল দলটি। বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নেওয়া।
সেই লক্ষ্য সামনে রেখে জোন্সের অধীনে জুলাই ও আগস্টজুড়ে যশোরে দীর্ঘ ক্যাম্পও করেছিল বাংলাদেশ। আঞ্চলিক পর্যায়ের সাফল্যকে আরও বড় মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাতেই প্রস্তুতি চলছিল। দলের শক্তি বাড়াতে বিদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচ ফুটবলারকেও স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছিল।
তবে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি মাঠের বাইরের ঘটনাপ্রবাহও ছিল অস্বস্তিকর। উজবেকিস্তানের উদ্দেশে দল দেশ ছাড়ার মাত্র কয়েক দিন আগে জোন্স ও সহকারী কোচ আতিউর রহমান মিশুর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এতে ক্যাম্পের ভেতরের পরিবেশ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল।
এরপর সেই অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে তাসখন্দ যাওয়ার আগে আয়োজিত এক অদ্ভুত সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে কোচিং স্টাফের কেউ ছিলেন না, ছিলেন না দলের কোনো খেলোয়াড়ও।
শেষ পর্যন্ত মাঠের সমস্যাও কাটেনি। বরং উজবেকিস্তান ও সিরিয়ার বিপক্ষে টানা দুই হারের পর বাংলাদেশ এখন দাঁড়িয়ে আছে এশিয়ান কাপের বাছাই থেকে ছিটকে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। আর এর মধ্যেই বিদায় নিতে হলো প্রধান কোচকেও।
