ইংল্যান্ডের কাছে টানা দুই টেস্ট হারার পর হুট করে একের পর এক কোচ ও ক্রিকেটারকে সরিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃতীয় টেস্ট হারাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। তখন নতুন করে কে হবেন ‘বলির পাঠা’। সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফের বলেই ফেললেন, বাবর আজম কি পিসিবির পরবর্তী টার্গেট?
প্রথম দুই টেস্টে হারের পর এমনিতেই চাপে ছিল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। এর মধ্যে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলী আগার মতো ক্রিকেটারদের দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। একই সঙ্গে টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বার্মিংহামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে।
পিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রশিদ লতিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রশ্ন, দল যদি শেষ পর্যন্ত বোর্ডের নির্দেশেই চালাতে হয়, তাহলে কোচদের দায়িত্বে রাখার প্রয়োজনই বা কী? অধিনায়কেরই বা কি দরকার?
লতিফ বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে নিয়েও। তার মতে, সবকিছু যদি পিসিবিই নিয়ন্ত্রণ করে, তাহলে তাদের যুক্তরাজ্যে পাঠানো হয়েছিল কেন? একই সঙ্গে তিনি প্রসঙ্গ টেনেছেন পাকিস্তানের সাবেক দুই কোচ জেসন গিলেস্পি ও গ্যারি কার্স্টেনেরও। পিসিবি, বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং নির্বাচক আকিব জাভেদের কাছ থেকে যথেষ্ট স্বাধীনতা না পাওয়ার কারণেই আগে দায়িত্ব ছেড়েছিলেন এই দুই কোচ, এমনটাই দাবি লতিফের।
এক্সে দেওয়া পোস্টে লতিফ লিখেছেন, ‘দল যদি রিমোট কন্ট্রোলে চালাতেই হয়, তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে পাঠানো হয়েছিল কেন? গ্যারি কার্স্টেন ও জেসন গিলেস্পির কাছ থেকে যদি নির্বাচনের ক্ষমতাই কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে তাদের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল কেন? আর অধিনায়ক বাবর আজম যদি কথা না শুনে থাকে, তাহলে অধিনায়ককেই বরখাস্ত করা উচিত ছিল। তাহলে সরফরাজ ও উমর গুলকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো কেন? বাবর আজমই কি পরবর্তী নিশানা?’
লতিফের শেষ প্রশ্নটিই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ চলতি বছরেই টেস্ট অধিনায়কত্ব নিয়ে আবারও সিদ্ধান্ত বদল করেছে পিসিবি। বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারার পর শান মাসুদের জায়গায় আবারও বাবর আজমকে টেস্ট অধিনায়ক করা হয়। তার নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ড্র করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শুরু হতেই পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যেতে থাকে।
সিরিজের মাঝপথে একসঙ্গে সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অবশ্য শুধু লতিফই সমালোচনা করেননি। মাইকেল আথারটন, নাসের হুসেইন, রমিজ রাজা, বাসিত আলী ও শহীদ আফ্রিদির মতো সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষকেরাও পিসিবির সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এমন পদক্ষেপ দলের ভেতরের অস্থিরতা আরও বাড়াবে।
তবে এত সমালোচনার পরও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন পিসিবিপ্রধান মহসিন নাকভি। তার দাবি, পাকিস্তান দলের উন্নতির স্বার্থেই বোর্ডকে এতটা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও অবশ্য তাদের পক্ষে কথা বলছে না। দলটি বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। শুধু তাই নয়, ডব্লিউটিসির ফাইনালে ওঠার দৌড়েও কখনোই নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি পাকিস্তান। টানা চতুর্থবারের মতো পয়েন্ট টেবিলের নিচের অর্ধে থেকেই এই চক্র শেষ করতে যাচ্ছে দলটি।
