নেত্রকোণায় ওএমএসের চাল পাচারের চেষ্টা, বিএনপি নেতাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় সরকারের খোলাবাজারে বিক্রির (ওএমএস) ৫ হাজার কেজি চাল পাচারের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হ্যান্ডট্রলির দুই চালককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন করিম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া দুজন হলেন—মদন উপজেলার দেওসহিলা গ্রামের মাসুম মিয়া (২৮) ও একই গ্রামের আকারুল্লাহ (২৪)।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন—মদন উপজেলা বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, তার সহযোগী কবির তালুকদার ও আব্দুল করিম। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।

রফিকুল ইসলামের দলীয় পদে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মদন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম ওএমএস ডিলার। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে পুলিশ জানতে পারে, তার গোডাউনে থাকা সরকারি চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে দুটি হ্যান্ডট্রলিতে করে ফতেপুর বাজার থেকে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফতেপুর ইউনিয়নের রুদ্রশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে দুটি হ্যান্ডট্রলি জব্দ ও চালকদের আটক করা হয়।

পরে দুটি হ্যান্ডট্রলি থেকে ৫০ কেজি ওজনের ১০০ বস্তায় মোট ৫ হাজার কেজি চাল জব্দ করে পুলিশ। এ সময় খাদ্য অধিদপ্তরের লোগো ও লেখা সম্বলিত ১৩৫টি খালি বস্তা পাওয়া যায়।

পুলিশ জানায়, হ্যান্ডট্রলির দুই চালক চালের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

ওসি সালাহ উদ্দিন বলেন, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মামলা করা হয়েছে। আটক দুজনকে শনিবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
 

Related Articles

Latest Posts