বলিভিয়ার একটি সেনাঘাঁটিতে দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৮৪ জন আহত ও ১৪ জন নিখোঁজ আছেন
আজ রোববার স্থানীয় প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।
শুক্রবার বিকেলে প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজ থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার মানুষের শহর ভিয়াচার ওই সামরিক স্থাপনায় দুটি বিস্ফোরণ ঘটে।
সেখানে গ্রেনেড ও টিএনটিসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক সংরক্ষণ করা হতো।
শনিবারও ওই এলাকার রাস্তাজুড়ে ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে ছিল এবং আশপাশের ভবনগুলোর জানালার কাচ ভেঙে গেছে।
প্রসিকিউটর ক্যাথরিন রামিরেজ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’ তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট ‘তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে’।
এর আগে দুজন তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
তারা বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণের প্রথম বছরে ছিলেন। বিস্ফোরণে আরও ৮৪ জন আহত হয়েছেন।
তৃতীয় মরদেহ উদ্ধারের পর নিখোঁজ সেনাসদস্যের সংখ্যা আগে জানানো ১৪ জন থেকে কমেছে কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি রামিরেজ। প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা নিখোঁজদের মধ্যে একজন সার্জেন্ট ও ১৩ জন বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর।
বিস্ফোরণের ফলে আকাশে ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্টরা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করে দেখছেন।
ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এএফপির প্রতিনিধিরা দেখতে পান, নিখোঁজ স্বজনদের সম্পর্কে তথ্য জানতে পুলিশের ব্যারিকেডের বাইরে বেশ কয়েকজন মানুষ ভিড় করেছেন।
এ সময় আদিবাসী আইমারা সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেনাসদস্যদের কাছে তাদের স্বজনদের খোঁজ জানতে চাইছেন। অন্যরা জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
অ্যাডলফো কোপা এএফপিকে বলেন, ‘তারা একটি পাথরও সরায়নি, সামান্য সিমেন্টও নয়, তারা কিছুই সরায়নি। আমার ভাতিজা এখনও ধ্বংসস্তূপের ভেতরে আছে।’
৬৫ বছর বয়সী ইরিনেও মামানি বলেন, তার ছেলে নিখোঁজদের তালিকায় আছে কি না, তিনি শুধু সেটি নিশ্চিত হতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই তারা আমাদের বলুক কোন কোন সেনাসদস্য নিখোঁজ আছে। আমরা শুধু এটুকুই জানতে চাই।’
তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান আর্নেস্তো হুস্তিনিয়ানো সতর্ক করে বলেছেন, ‘এলাকাটিতে ঝুঁকি এখনও অনেক বেশি’, কারণ এখনো সব শক্তিশালী বিস্ফোরক সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হুস্তিনিয়ানো বলেন, ‘আমরা একটি নির্দিষ্ট এলাকায় গিয়ে এখনও কিছু বিস্ফোরক চিহ্নিত করেছি। এগুলোর মধ্যে আছে উচ্চ বিস্ফোরণক্ষমতার টিএনটি।’
ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় একটি ‘সংকট কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের এলাকায় বাড়িঘরের ছাদ উড়ে গেছে, পাথর ছিটকে পড়েছে এবং গাছ উপড়ে গেছে।
এতে ২০ থেকে ২৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবারের এক প্রতিবেদনে হুস্তিনিয়ানো বলেন, প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটেছিল ‘সেখানে সংরক্ষিত আতশবাজির উপকরণ ব্ল্যাক পাউডার’ থেকে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ও আরও বড় বিস্ফোরণের কারণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ শুক্রবার নিহতদের পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সব বাসিন্দার প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ, কারিগরি ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি।’
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার কারণ চিহ্নিত করতে হবে। নিরাপত্তা প্রটোকল মেনে চলা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে হবে এবং কারও দায় থাকলে তা খুঁজে বের করতে হবে।’
এই ঘটনায় ভিয়াচার কর্তৃপক্ষ তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে শহরটির সরকারি প্রসিকিউটরের কার্যালয় শনিবার জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
