২২ ডিসিপ্লিনে ১৮৭ ক্রীড়াবিদ, বাংলাদেশের পদকের আশা ৪ খেলায়

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবারও বেশ বড় পরিসরে। ২২টি ডিসিপ্লিনে লড়বেন দেশের ১৮৭ ক্রীড়াবিদ। তবে এত বড় বহর নিয়েও পদকের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী নয় বাংলাদেশ। অতীতের সাফল্য ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় পদকের আশা করছে ক্রিকেট, কাবাডি, শুটিং ও আর্চারিতে।

সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ বলেন, ‘যারা অতীতে ভালো ফল করেছে, তাদের কাছ থেকেই আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে। কাবাডি এমনই একটি খেলা। তারা আগে ফল দিয়েছে, এবারও ভালো ফল করবে বলে আমরা আশা করছি। ক্রিকেট, শুটিং ও আর্চারিতেও আমাদের প্রত্যাশা আছে।’

এশিয়ান গেমসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পাওয়া ১৪টি পদকের মধ্যে ক্রিকেট থেকেই এসেছে ছয়টি, কাবাডি থেকে সাতটি এবং বক্সিং থেকে একটি। তবে এবার বক্সিংয়ের চেয়ে আর্চারিতেই বেশি আশাবাদী বিওএ।

ইমরোজ বলেন, ‘আমাদের আর্চাররা অতীতে ভালো করেছে। তাই এবার তারা ভালো করবে না—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। যেদিন আপনি পারফর্ম করবেন, সেদিন যদি নিজের সেরাটা দিতে পারেন, তাহলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।’

জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ২০তম এশিয়ান গেমস। সেখানে বাংলাদেশের ২৬০ সদস্যের দলে থাকছেন ৯০ জন পুরুষ ও ৯৭ জন নারী ক্রীড়াবিদ। তাদের সঙ্গে থাকবেন ৭৩ জন কোচ ও কর্মকর্তা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকি ও কারাতেকা হুমাইরা আক্তার অন্তরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন ৬৫ জন ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা। সমাপনী অনুষ্ঠানে থাকবেন ৪৫ জন। যেসব ক্রীড়াবিদের ২০ সেপ্টেম্বরই খেলা রয়েছে, তাঁরা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।

এবার বাংলাদেশের আটটি দল থাকবে একটি ক্রুজ জাহাজে। আর্চারি, জিমন্যাস্টিকস, জুডো, কাবাডি, ভারোত্তোলন, কুস্তি ও টেবিল টেনিসের সঙ্গে ত্রহাকছে উশুও।

তবে এত বড় বহর নিয়ে এশিয়ান গেমসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে সদ্য শেষ হওয়া গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে বাংলাদেশ কোনো পদক না পাওয়ায় ২৬০ সদস্যের দল পাঠানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ইমরোজ অবশ্য এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, ‘প্রতিটি সরকারের নিজস্ব দর্শন থাকে। আমরা যদি ক্রীড়াঙ্গনকে আরও বৃহত্তর দৃষ্টিতে দেখি, তাহলে আমাদের মতো আরও অনেক দুর্ভাগা দেশ আছে, যারা পদক জিততে পারে না। সেই যুক্তি অনুসরণ করলে এশিয়ান গেমসে মাত্র ১০টি দেশ অংশ নিত, বাকিরা কেউ খেলত না। সবাই কিছু একটা অর্জনের জন্য লড়ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কিছু মানুষকে খেলার সুযোগ দিচ্ছি, অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিচ্ছি, যাতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।’

বহু-ক্রীড়া আসরে অ্যাথলেটিকস ও সাঁতারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে ইমরোজ বলেন, ‘অ্যাথলেটিকস ও সাঁতার হলো এসব বহু-ক্রীড়া আসরের মূল খেলা। এসব ইভেন্টে আমাদের অংশগ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।’

অংশগ্রহণের আরেকটি বাস্তব কারণও তুলে ধরেছেন তিনি, ‘আমাদের নিজেদের অ্যাফিলিয়েশনেরও একটি বিষয় আছে। আমরা যদি কোথাও অংশগ্রহণ না করি, তাহলে কার্যত আমাদের কোনো উপস্থিতিই থাকবে না। আমাদের অংশ নিতে হবে।’

ক্রীড়াবিদ নির্বাচন নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সত্ত্বেও সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি ও শুটার কামরুন নাহার কলি নিজ নিজ দলে জায়গা না পাওয়ায় প্রশ্ন তোলেন সাংবাদিকেরা। পাশাপাশি দলের কর্মকর্তার সংখ্যা এবং প্রস্তুতির মান নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিওএর কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন ফেডারেশনের প্রতিনিধিরা জানান, এশিয়ান গেমসের জন্য ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের নির্বাচন করেছে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের আগের কমিটিগুলো।

তবে একটি বিষয় তারা স্পষ্ট করেছেন, প্রয়োজনে পরবর্তীতে কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করা গেলেও ক্রীড়াবিদদের তালিকায় আর পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না। ফলে যাদের নিয়ে দল গঠন করা হয়েছে, তাদের ওপরই এখন বাংলাদেশের পদকের প্রত্যাশা।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম দল হিসেবে জাপানে পৌঁছাবে নারী ফুটবল দল। ১১ সেপ্টেম্বর জাপানে পৌঁছানোর কথা তাদের। এরপর ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথম ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের এশিয়ান গেমস অভিযান।

 

Related Articles

Latest Posts