ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু নিজের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কিলিয়ান এমবাপের মনে কোনো সংশয় নেই। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় কে, এমন প্রশ্নে নিজের নামটাই সবার আগে রেখেছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক। তার সোজাসাপ্টা দাবি, ‘আমি সবসময়ই মনে করি, আমিই বিশ্বের সেরা।’
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেও বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি এমবাপে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন দুর্দান্ত। বিশ্বকাপে ১০ গোল করে জিতেছেন গোল্ডেন বুটও। এসব সাফল্যের পর এবার ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাও দেখছেন ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
ব্যালন ডি’অর নিয়ে কথা বলতে গিয়েই নিজের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি তুলে ধরেন এমবাপে, ‘আমি সবসময়ই মনে করি, আমিই বিশ্বের সেরা। তবে সবার নিজস্ব মতামত আছে। হয়তো মানুষ ভিন্নভাবে ভাবে। আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজন আছে।’
নিজেকে সেরা মনে করলেও ব্যালন ডি’অর জেতার বিষয়টি যে তার হাতে নেই, সেটিও ভালোভাবেই জানেন এমবাপে, ‘অবশ্যই, এ বছর আমার জন্য ব্যালন ডি’অর জয়ের ভালো সুযোগ হতে পারে। তবে সাংবাদিকরাই ভোট দেন।’
রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে ৪২ গোল করা এমবাপের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান অবশ্য তার দাবির পক্ষে যথেষ্ট শক্তিশালী। বিশ্বকাপেও ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছেন তিনি। বিশ্বকাপে তার মোট গোল এখন ২২টি। যদিও ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানেই থেমেছে।
তবে এবারের ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এমবাপেকে বুকিদের সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হচ্ছে না। সেখানে বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেইনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। গত মৌসুমে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করে বায়ার্নকে জার্মানির ঘরোয়া ডাবল জেতানো কেইন এখন শীর্ষে। এরপর আছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং এমবাপের রিয়াল সতীর্থ রদ্রি।
এমবাপে অবশ্য এসব হিসাব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর ১০৭ ম্যাচে ৯০ গোল করেছেন তিনি। যদিও দুই মৌসুমে এখনো বড় কোনো ক্লাব ট্রফি জেতা হয়নি তার।
ব্যক্তিগত সাফল্যের দিক থেকে অবশ্য এমবাপের অর্জনের তালিকা বেশ লম্বা। টানা আট মৌসুম লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন, ফ্রান্সে ছয়বার এবং স্পেনে দুবার। বিশ্বকাপে দুবার ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুবার গোল্ডেন বুট জিতেছেন। ফ্রান্সের হয়ে ২০১৮ বিশ্বকাপও জিতেছেন। তবে ক্লাব ফুটবলে এখনো চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি জেতা হয়নি তার।
পিএসজি ছাড়ার পর সাবেক ক্লাবের সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমবাপে চলে যাওয়ার পরের মৌসুমেই পিএসজি প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে এবং পরের মৌসুমেও শিরোপা ধরে রাখে। তবে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না এমবাপে।
‘আমি এটা পরিবর্তন করতে পারি না। সত্যি বলতে, এটা নিয়ে আমি মোটেও চিন্তা করি না। আমি ফুটবল বিশ্লেষণ করতে জানি এবং জানি কেন এমন হয়েছে। ফুটবল সম্পর্কে আমি সবকিছু জানি না, তবে বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে বেশি জানি,’ বলেন তিনি।
এখন অতীত কিংবা অন্য দলের সাফল্য নিয়ে পড়ে থাকতে চান না এমবাপে, ‘রিয়াল মাদ্রিদে আমার অভিজ্ঞতা আমাকে বলে, খুব বেশি দূরের কথা চিন্তা করা উচিত নয়। অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। আমি ভাবতে চাই, কীভাবে প্রস্তুত থাকব, কীভাবে দলকে ম্যাচ জিততে সাহায্য করব এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা ভালোভাবে শুরু করব।’
