বিদেশি নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবসায়ী ও বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ ও তার সহযোগীদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা দাবির অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—কামরুল হাসান ওরফে সাগর (২৫), মো. রিকু (২৫), মো. তরিকুল ইসলাম ওরফে রোহিত (২০), আহমদুল্লাহ ওরফে মাসুম (৪০), আহমদ রেজা শাকিল (২৫), মো. মানিক (৪০) ও নুরুল আলম ৪০।
আজ দুপুরে জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, সম্প্রতি হাটহাজারীর আমানবাজার এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি ‘১০০ জন পুলিশ পাহারায় থাকলেও রক্ষা করা যাবে না’ বলেও হুমকি দেওয়া হয়। একইভাবে বড়দিঘীর পাড় এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছেও বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, গোপন সূত্র এবং গ্রেপ্তার মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ও কালা মোবারককে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে গতকাল রাত ২টা থেকে টানা ২৪ ঘণ্টা হাটহাজারীর ভুলিয়াপাড়া ও খন্দকিয়া, নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার মাজার এলাকা এবং খুলশী থানার দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে একটি তলোয়ার, একটি চাপাতি, একটি ছুরি, একটি টিপছোরা এবং চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত বিদেশি নম্বরসহ চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
মাসুদ আলম আরও বলেন, আহমদ রেজা শাকিলের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি, চাঁদাবাজির দুটি, অপহরণের একটি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি, ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং হত্যাচেষ্টার একটি মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে।
জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গ্রেপ্তাররা সবাই ডেভিড ইমনের মাসিক চুক্তিতে কর্মচারী। বড় সাজ্জাদের নাম ভাঙিয়ে এরা নিজেরাই এখন চাঁদা তোলে। ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের হওয়ার আগে তাদের প্রত্যেককে মাসে ১৫-২০ হাজার টাকা বেতন হিসাবে দিতো। এখন তারা নিজেরাই চাঁদা তোলে।
