‘ভিনিসিয়ুসের সেরা সময় আসছে’ বললেন মরিনহো

ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদে সমালোচনা যতই বাড়ুক, তার ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না জোসে মরিনহো। বরং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের বর্তমান সময়টাকেই দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর আগের অধ্যায় হিসেবে। রিয়াল কোচের বিশ্বাস, যে ভিনিসিয়ুস একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারতেন, সেই ভিনিসিয়ুসই আবার ফিরছেন। শুধু এখনো নিজের সেরা জায়গাটায় পৌঁছাতে পারেননি।

লা লিগায় রিয়াল মাদ্রিদের ছন্দে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ছেদ পড়েছে। বেতিসের কাছে হারের পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানকে হারিয়ে অবশ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। তবে সেই ম্যাচেও ভিনিসিয়ুসকে ঘিরে সমালোচনা এবং দর্শকদের দুয়ো নিয়ে কথা উঠেছে। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্রাজিলিয়ান তারকার পাশেই দাঁড়ান মরিনহো।

ভিনিসিয়ুসকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পর্তুগিজ কোচ টেনে আনেন একটি পুরোনো প্রবাদ, ‘ফল ধরে এমন গাছেই মানুষ পাথর ছোড়ে।’ তার মতে, ভিনিসিয়ুস এত কিছু অর্জন করেছেন বলেই এখন তাঁর কাছ থেকে প্রত্যাশাটাও এত বেশি।

‘এখানে ভিনিসিয়ুস কী করেছে? সে কতগুলো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছে? কত গোল করেছে? কতগুলো ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছে?’ প্রশ্ন রাখেন মরিনহো।

তবে এখানেই থামেননি তিনি। মরিনহোর চোখে, ভিনিসিয়ুসের সেরা সংস্করণ এখনো সামনে। গত মৌসুমে বেনফিকার বিপক্ষে যেভাবে একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিয়েছিলেন, সেই ভিনিসিয়ুসই আবার ফিরছেন বলে বিশ্বাস তার, ‘গত বছর বেনফিকার বিপক্ষে যে ভিনিসিয়ুস একাই লড়াই শেষ করে দিয়েছিল, সে আসছে। সে এখনো সেখানে পৌঁছায়নি। তবে সে আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রম করছে।’

ভিনিসিয়ুসের উন্নতির পেছনে তার পরিশ্রমের পাশাপাশি পরিসংখ্যানও কথা বলছে বলে মনে করেন মরিনহো। তথ্যনির্ভর এই যুগে একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বিচার করতে শুধু গোল বা অ্যাসিস্টের দিকে তাকালেই হয় না; বিভিন্ন সূচকেও তার উন্নতি ধরা পড়ে। ভিনিসিয়ুসের ক্ষেত্রেও তেমনটাই দেখছেন রিয়াল কোচ, ‘এই তথ্যনির্ভর যুগে সে নিজের সেরা অবস্থানের খুব কাছাকাছি। এই মৌসুমে সে নিজের অনেক রেকর্ড ভেঙেছে। বল পুনরুদ্ধারের সংখ্যাতেও তার উন্নতি হয়েছে। সে আসছে।’

ভিনিসিয়ুসকে দর্শকদের দুয়ো দেওয়ার বিষয়টিও মরিনহোকে কষ্ট দেয়। যদিও এ নিয়ে সরাসরি সমর্থকদের সমালোচনা করতে চাননি তিনি। নিজের খেলোয়াড়দের প্রতি তিনি কতটা কঠোর, সেটি বোঝাতে সতীর্থ ডিন হুইজেনের একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন। হুইজেন একবার বলেছিলেন, মরিনহো সবসময় তার ওপর নজর রাখেন, যেন তিনি একটা বিরক্তিকর উপস্থিতি। মরিনহো স্বীকার করেন, তিনি সত্যিই খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা চান।

‘আমি নিজের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে খুবই কঠোর। হুইজেনের একটি কথা পড়েছিলাম, আমি নাকি বিরক্তিকর, সবসময় তার ওপর নজর রাখি। সত্যিই তাই। আমি খুবই দাবিদার। আর দাবিদার হওয়া মানে হলো, আপনার যা দেওয়ার আছে, তার সবটুকু দেওয়া।’

তবে মরিনহোর কাছে শুধু তারকা খেলোয়াড় হওয়াই যথেষ্ট নয়। যে খেলোয়াড় দলের জন্য নিজের সবটুকু দেয়, সতীর্থদের জন্য লড়ে এবং ক্লাবের ব্যাজের প্রতি সম্মান দেখায়, তার পাশে সবসময় থাকবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি, ‘যে খেলোয়াড় নিজের সবটুকু দেয়, আমি তাকে সম্মান করি। সে খেলতে চেয়েছে, দলকে সাহায্য করতে চেয়েছে, দলের হয়ে খেলেছে এবং ক্লাবের ব্যাজের প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। এই ধরনের খেলোয়াড়ের পাশে আমি সবসময় থাকব। এর মানে এই নয় যে সে সবসময় খেলবে, কিন্তু আমি সবসময় তার পাশে থাকব।’

রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে সমর্থকদের সঙ্গে দলের সম্পর্ক কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন মরিনহো। তার অভিজ্ঞতায়, মাঠের দল আর গ্যালারির সমর্থকেরা যখন একই সুরে থাকে, তখন ঘরের মাঠে রিয়ালকে হারানো আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

‘দল আর স্টেডিয়ামের মধ্যে যখন ঐক্য থাকে, তখন একটি দল প্রায় অজেয় হয়ে যায়। আমি এখনো শীর্ষ লিগে ঘরের মাঠে সবচেয়ে বেশি সময় অপরাজিত থাকার গিনেস বিশ্ব রেকর্ডের মালিক। ছয়-সাত বছর হোম ম্যাচে হারিনি, ঠিক কত ছিল, মনে নেই। কিন্তু যখন আপনি দল হিসেবে স্টেডিয়ামের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেন, তখন আপনি অজেয় হয়ে ওঠেন,’ বলেন তিনি।
 

Related Articles

Latest Posts