রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে এক আইনজীবী ও অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে লালবাগ ও শাহবাগ থানা পুলিশ।
আজ শনিবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, লালবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিম্ন আদালতের আইনজীবী আনোয়ার হোসেনের (৪৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি শহীদনগর ৩ নম্বর লেনের ১০/১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
এদিন দুপুরে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান ও হাইকোর্ট মাজারের কাছে ফুটপাত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের একজনের বয়স আনুমানিক ৬৫ ও অন্যজনের ৪৫ বছর।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে, জানিয়েছে পুলিশ।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, পথচারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাইকোর্ট মাজার ও জাতীয় ঈদগাহের কাছে ফুটপাত থেকে দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
‘দুই ব্যক্তিকে ভবঘুরে বলে মনে হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) একটি ফরেনসিক দলকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে,’ বলেন তিনি।
লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জামিল হোসেন বলেন, ১ সেপ্টেম্বর আনোয়ার ওই বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তিনি সেখানে একাই থাকতেন।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ‘সকালে এক প্রতিবেশী ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ পান। সামান্য ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। ভেতরে তাকিয়ে তিনি আনোয়ারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশকে জানান।’
আনোয়ারের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার গোয়ালগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম আবদুল মজিদ।
জামিল বলেন, আনোয়ার মেঝেতে বিছানা পেতে ঘুমাতেন এবং সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া যায়। তার মরদেহ পচতে শুরু করেছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, অসুস্থতাজনিত কারণে দুই-তিন দিন আগে আনোয়ারের মৃত্যু হয়েছে।
আনোয়ারের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, জজ কোর্টের আইনজীবী হলেও নিয়মিত আদালতে যেতেন না। তিনি হতাশায় ভুগতেন এবং মাদকাসক্ত ছিলেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি,’ বলেন তিনি।
