মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে ইসরায়েলের ‘অনুগত’ হতে পারে না যুক্তরাষ্ট্র: জেডি ভ্যান্স

মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ‘অনুগত’ হয়ে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা এবং পরবর্তী নির্বাচনে সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভ্যান্সের এই বক্তব্য ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার লস অ্যাঞ্জেলেসে অল-ইন সামিটে দেওয়া বক্তব্যে ভ্যান্স বলেন, সামরিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ক্ষেত্রে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তবে নিরাপত্তার বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করতে হবে না।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা যখন কারও সঙ্গে কাজ করব, তখন কাজ করব। মতভেদ হলে মতভেদ করব। আর আমরা আমেরিকার স্বার্থ অনুসরণ করব।’

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এরপর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক চলাচলও ব্যাহত হয়েছে।

গত বছর গাজায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার জন্য ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছিলেন। ৫ মার্চ ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ট্রাম্পকে ধন্যবাদও জানান।

তবে পলিটিকো জানায়, এই ইতিবাচক অবস্থানের আড়ালে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। জুনে ভ্যান্স ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছিলেন, তাদের বন্ধু এখন খুব কম এবং ওয়াশিংটনকে বিচ্ছিন্ন করার আগে তাদের সতর্কভাবে ভাবা উচিত।

গত জুনে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পক্ষে ভ্যান্সের অবস্থান ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করে। এতে ইসরায়েলপন্থী রিপাবলিকান দাতাদের একটি অংশের কাছেও তার অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের সঙ্গেও তুলনা করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি যেমন ন্যাটোর ‘অনুগত’ নয়, তেমনি ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

এদিকে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক বিধিমালা তৈরির আহ্বানও নাকচ করেছেন ভ্যান্স।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেইয়ের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো যদি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ (দানব) তৈরি করে, তাহলে সরকারের কাছে গিয়ে নিয়ন্ত্রণের দাবি না করে তাদের নিজেদের দিকেই তাকানো উচিত।

তিনি বলেন, কেউ যদি ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ তৈরি করে, তাহলে প্রথমে তা বন্ধ করা উচিত। আর কোনো কোম্পানি যদি ওই ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের’ বিরুদ্ধে লড়তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চায়, তাহলে তাদের সেই সরঞ্জামও দেওয়া উচিত।

লস অ্যাঞ্জেলেসে একই সম্মেলনে ভ্যান্স এসব কথা বলেন। এর আগে কৃত্রিম সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এই প্রযুক্তি এখনো বাস্তবে তৈরি হয়নি।

আমোদেই শনিবার সতর্ক করে বলেন, এআইয়ের সক্ষমতা যেভাবে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এআই এজেন্টদের একটি দল পুরো ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষম হয়ে উঠতে পারে।

Related Articles

Latest Posts