‘২ ‍দিনে আমার ৭ ছেলের ঘর নদীতে চলে গেছে’

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের ডুবশী ও শিকদারপাড়া এলাকায় মধুমতী নদীর বাঁ তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

আজ বুধবার পর্যন্ত ভাঙনে ১২০ বিঘা জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে বলে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এফ এম মারুফ রেজা।

তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ১১টি পরিবার নদীর পাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এবার তুলনামূলক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙনের গতি বেশি হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হচ্ছে।’

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হেমেলা বেগম (৭০) বলেন, ‘ভাঙন শুরুর দিন আসরের সময় অজু করতে ঘরে এসেছিলাম। তখন ছেলের বউ বলছিল, মা আসেন, সব চলে যাচ্ছে। ওইদিনই পাঁচটি ঘর নদীতে চলে যায়, পরদিন যায় আরও। আমার সাত ছেলের ঘরই ভেঙে গেছে বাজান।’ 

ভাঙনে ঘর হারিয়ে নদীর পাড়েই রাত-দিন কাটাচ্ছেন কৃষক রহমত আলী শেখ (৪২)। তার বসতঘরসহ ভিটার প্রায় সবকিছু নদীতে চলে গেছে।

ডেইলি স্টারকে রহমত বলেন, ‘গত শুক্রবার থেকে ব্যাপক ভাঙন হচ্ছে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা আমাদের খোঁজ নেননি। বাইরে গিয়ে ঘর তোলার জায়গা নেই, তাই বাধ্য হয়ে নদীর পাড়েই থাকছি।’

যোগাযোগ করা হলে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাকারিয়া ফেরদৌস ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জালালাবাদ ইউনিয়নের ডুবশী মোল্লাপাড়া ও শিকদারপাড়ায় মধুমতী নদীর প্রায় ৪০০ মিটার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে চার হাজার জিও ব্যাগ সরবরাহ করে বালু ফেলা হয়েছে। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগে ২৫০ মিটার এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নতুন ৪০০ মিটার এলাকায় কাজের অনুমোদন দ্রুত পাওয়া গেলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে।’

Related Articles

Latest Posts