সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না: সরকারের উদ্দেশে পরওয়ার

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

‘আমরা সরকারকে অনুরোধ করব, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরকে কাজে লাগিয়ে কখনোই জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবেন না,’ বলেন তিনি।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে পরওয়ার এ কথা বলেন।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদও বক্তব্য রাখেন।

পরওয়ার বলেন, ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করার প্রস্তুতি সারাদেশে চলছে। বৈঠকে এর অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, জনগণের দুর্ভোগ এবং দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, আগের সাত দফার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা নদীর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টি যুক্ত করে এখন মোট আট দফা দাবি সামনে আনা হয়েছে।

ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় ১১ দলীয় ঐক্য  রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু করবে। উদ্বোধনী সভা চলবে সকাল ৮টা পর্যন্ত। এরপর পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা হবে। রংপুর জিলা স্কুলে হবে সমাপনী সমাবেশ।

পরওয়ার বলেন, ঢাকা-রংপুরের পথ ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চেয়ে প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেশি। ফলে পথে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা থাকবে না। অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের খাবার, পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে।

লংমার্চ শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, ট্রাফিক, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের কর্মসূচির বিষয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

‘অস্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা, ভাঙচুর—এই জাতীয় কোনো চিন্তা ১১ দলের মধ্যে নেই। আমাদের গোটা কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

কর্মসূচিতে বাধা দিয়ে দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার উদ্দেশ্য কারও থাকলে, সেই চেষ্টা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান পরওয়ার।

গণভোটের রায় উপেক্ষা এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, মেজরিটির শক্তি দেখাতে গিয়েই অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছিলেন।

‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব,’ যোগ করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের প্রক্রিয়া অনুসরণেরও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত অঙ্গীকারে সংস্কারের কথা বলা হলেও সরকার এখন সে পথ থেকে সরে গেছে।

পরওয়ার বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক সংকট আরও বাড়াবে।

Related Articles

Latest Posts