রাশিয়াকে সহায়তা করলেই ১০০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা ট্রাম্পের, ঝুঁকিতে কোন কোন দেশ?

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা নতুন নিষেধাজ্ঞার অনুমোদন দিয়েছেন। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে যাচ্ছে রাশিয়ার মিত্ররাও।

আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

কয়েক মাস দেরির পর আইনটি এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সইয়ের অপেক্ষায়।

গতকাল বুধবার রিপাবলিকানদের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি পরিষদ ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস করেছে।

দুই দলের আইনপ্রণেতারা এর সঙ্গে একমত প্রকাশ করলেও কেউ কেউ দাবি করেছেন, এই বিল পাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প শুল্ক আরোপের নজিরবিহীন ক্ষমতার অধিকারী হতে চলেছেন।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এটাই মস্কোর বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় আইনি উদ্যোগ, যা কংগ্রেসের চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিলে সই করবেন। গত মাসে সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাসের পর এবার প্রতিনিধি পরিষদের বাধাও পেরিয়েছে বিলটি।

এই আইনের আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারাও পড়বেন।

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত ‘বেনামি’ তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও এর আওতায় আনা হয়েছে।

এই আইনের অপর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রাশিয়া যেন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পারে, সেটার ব্যবস্থা করা। ওই লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেশটির রাজস্ব প্রবাহ বন্ধে রুশ তেল-গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় পড়তে পারে চীন ও ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশ।

তবে কোনো দেশের নাম সুনির্দিষ্টভাবে বিলে উল্লেখ করা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই বিল পাসের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি হাতিয়ার, যা এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে এবং রাশিয়াকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাধ্য করতে পারে।’

‘নিষেধাজ্ঞা অবশ্যই কঠোর হতে হবে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও আমাদের অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাসহ শান্তির সব উদ্যোগ সফল হতে পারে,’ যোগ করেন তিনি।

রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা যেকোনো বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই বিলের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি, ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার পরিধিও বাড়ানো হবে।

ভারত জানিয়েছে, তারা ‘পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।’

নয়াদিল্লির গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার ও সামরিক সরবরাহকারীদের অন্যতম মস্কো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে বেইজিং।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরোপিত নতুন বিধিনিষেধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আজ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইনে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের সুদূরপ্রসারী উদ্যোগের কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনও নেই। চীন এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করে।’

তিনি জানান, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার সময় চীন উভয় দেশের মানুষের উপকার ও সমতার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করে। তৃতীয় পক্ষের চাপে এ ধরনের সহযোগিতার সম্পর্কগুলো বিঘ্নিত হতে পারে।
 

Related Articles

Latest Posts