চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন) নাজিমুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, প্রশাসনিক রুটিন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ বদলি করা হয়েছে।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা না নেওয়ায় ওসি কামরুল হাসানকে দায়িত্ব পালনে ‘অযোগ্য ও অদক্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
১৫ কার্যদিবসের মধ্যে গৃহীত ব্যবস্থা সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ করে আদালতকে জানাতে বলা হয়। এছাড়া মামলা না হওয়া ২৩টি চুরির ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে এজাহার (এফআইআর) হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার সাড়ে তিন মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথক মামলা করার আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত না করায় আদালত ওসিকে কারণ দর্শাতে বলেন।
পরে লিখিত জবাবে ওসি দাবি করেন, বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর না থাকায় মামলা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে নথি পর্যালোচনা করে আদালত বলেন, প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ ও সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল। ১ মে থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৫টি আবেদন পাওয়ার পরও আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে জবাব চাওয়া পর্যন্ত ওসি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
আদেশের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগ পেয়েও এজাহার না করে ওসি ‘পুলিশ রেগুলেশন অব বেঙ্গল’-এর ২৪৩ ও ২৪৪ বিধি এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারা লঙ্ঘন করেছেন। ওসির এমন নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সরকারি সম্পদ চুরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে জনরোষ তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এমন কর্মকর্তা ওসির পদে দায়িত্ব পালনে পুরোপুরি অযোগ্য।
