সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
এছাড়া, শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যপদ্ধতি চূড়ান্ত করা হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল এনপিএর বোর্ড সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় অর্থমন্ত্রী পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব, কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করতে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান।
সুরাতুজ্জামান জানান, সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেনশনভোগীদের বিনিয়োগের মুনাফার হার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
এছাড়া পেনশন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে নিয়মিত সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি হিসাব নিরীক্ষার জন্য একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পেনশন ব্যবস্থা নেই—এমন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনা হবে।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার বিষয়ে আলোচনা হলেও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান সুরাতুজ্জামান।
একজন অ্যাকচুয়ারির পরামর্শ নেওয়ার পর তার মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
অনেক দেশে ৬২ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে পেনশন পাওয়া যায়। স্পেনে ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে বয়সসীমা ৬৬ বছর।
বাংলাদেশে মানুষের গড় আয়ুও এখন প্রায় ৭৩ বছর এবং তা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে ঋণসুবিধা চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
পেনশন স্কিমে যোগদানের নিবন্ধন ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।
চারটি স্কিমের মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট থেকে সবচেয়ে কম সাড়া পাওয়া গেছে। এতে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন নিবন্ধন করেছেন এবং তারা মোট ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসী কর্মীদের এই স্কিমে নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার চারটি কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন এবং তারা মোট ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।
সমতা কর্মসূচিতে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধন করেছেন এবং তাদের জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
