ম্যাচ শুরুর আগে দুই দেশের খেলোয়াড়েরা মাঠে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী বাজার কথা জাতীয় সংগীত। কিন্তু মাইকে সুর বেজে উঠতেই বিস্ময়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাতে লাগলেন দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়রা।
কারণ, নিজেদের জাতীয় সংগীতের বদলে জাপানের গিফু গ্রিন স্টেডিয়ামে তখন ভেসে আসছে তাদের ‘চিরশত্রু’ উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত!
শুক্রবার এশিয়ান গেমসের পুরুষ হকির ‘এ’ পুলের ম্যাচে বাংলাদেশের মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ কোরিয়া। কিন্তু খেলা শুরুর বাঁশি বাজার আগেই দক্ষিণ কোরিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে তৈরি হয় ঘোর অস্বস্তি ও বিভ্রান্তি।
আয়োজকদের এমন ভুল টের পেয়ে অবশ্য দ্রুতই মাইক্রোফোন হাতে নেন স্টেডিয়ামের ঘোষক। প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সত্যিই দুঃখিত, অত্যন্ত দুঃখিত। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের (দক্ষিণ কোরিয়া) জাতীয় সংগীতের বদলে আমরা ভুল একটি সংগীত বাজিয়ে ফেলেছি। আমি সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী।’
মাঠে জাতীয় সংগীত নিয়ে এই বিভ্রাট স্রেফ কোনো সাধারণ প্রযুক্তিগত ভুল নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। কারণ, দক্ষিণ কোরিয়াতে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত কিংবা অন্যান্য জাতীয় প্রতীক প্রদর্শন আইনত নিষিদ্ধ।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার ১৯৫০-৫৩ সালের কোরিয়ান যুদ্ধ কোনো স্থায়ী শান্তিচুক্তির মাধ্যমে শেষ না হয়ে স্রেফ যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে থেমেছিল। ফলে কাগজে-কলমে তারা আজও একে অপরের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত।
কাতারের সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, জাতীয় সংগীত অদল-বদলের এই কাণ্ড নিয়ে ২০২৬ এশিয়ান গেমসের আয়োজক কমিটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে চলতি আসরে আয়োজকদের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়া।
পুরুষ হকিতে গত এশিয়ান গেমসে তৃতীয় হয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। এবার বাংলাদেশকে ৫-০ গোলে হারিয়ে তারা যাত্রা শুরু করেছে।
