ফরিদপুর শহরের পুরাতন কালী বাড়ি থেকে কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমাসহ মূল্যবান অলংকার চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্দির কমিটি।
এ ঘটনায় মন্দিরটির সেবায়েত ও কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী (৪১) আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন বলে দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান।
তিনি জানান, গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে আজ রোববার ভোর পৌনে ৬টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—কষ্টি পাথরের কালি প্রতিমাসহ গায়ে থাকা বিভিন্ন প্রকার ৭-৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের ছোট বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ, মনসা মুতি ও শিবলিঙ্গের সঙ্গে প্যাঁচানো রুপার প্রায় ৮-১০ ভরি ওজনের একটি সাপ।
মন্দিরের পুরোহিত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী ডেইলি স্টারকে জানান, চুরি হওয়া কষ্টি পাথরের কালী প্রতিমাটি শ্বেতপাথরের শিব প্রতিমার ওপর স্থাপিত ছিল।
‘এর মধ্যে থেকে শ্বেতপাথরের শিব প্রতিমাটি রেখে ওপরের কালী প্রতিমাটি নিয়ে গেছে অজ্ঞাত চোররা,’ বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দুটি প্রতিমার সম্মিলিত ওজন প্রায় ৪০ কেজি, এর মধ্যে কষ্টি পাথরের কালি প্রতিমাটির ওজন অন্তত ২০ কেজি হবে।
মন্দিরের পূর্ব পাশে কাঠের দরজা ও কলাপসিবল গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হয়—এমন একটি কক্ষে প্রতিমাগুলো রাখা ছিল। পুরোহিত জানান, চোরেরা প্রথমে একটি তালা ভেঙে কাঠের দরজা খোলে। এরপর চারটি তালা দিয়ে সুরক্ষিত লোহার শাটার গেটটিও ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়।
মন্দিরে সিসি ক্যামেরা অকেজো ছিল বলে জানান কুশল চক্রবর্তী। চুরি হওয়া কোনো সামগ্রী পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।
কুশল চক্রবর্তী জানান, আজ সকাল পৌনে ৬টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী এবং ওসি মাহমুদুল হাসান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে ঘটনাস্থলে এসে উপাত্ত-প্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ওসি মাহমুদুল বলেন, ‘চোরচক্রকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে পুলিশের বেশ কয়েকটি দল কাজ শুরু করেছে।’
