বগুড়ায় দুর্ঘটনায় ছিদ্র হয়ে যাওয়া একটি তেলবাহী লরি থেকে অপরিশোধিত রাইস ব্রান অয়েল নিয়ে গেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই তেল সরাসরি ব্যবহার বা খাওয়া যাবে না বলে লরিচালক জানালেও তা সংগ্রহ করতে স্থানীয়দের হুড়োহুড়ি করতে দেখা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ছোট বেলাইল এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী তেলবাহী লরিটিকে পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে লরিটি ছিদ্র হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের প্রায় ১০০ মিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পানি ছিটিয়ে সড়ক থেকে তেল অপসারণ করে।
বগুড়া সদর উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর ভারী তেল রাস্তায় পড়ে যাওয়ায় কয়েকটি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে।
একজন মোটরসাইকেলচালক বিষয়টি আমাদের জানালে দুটি ইউনিট নিয়ে আমরা পানি দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করি। এখন আর দুর্ঘটনার সম্ভাবনা নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, এটি অপরিশোধিত রাইস ব্রান অয়েল। তবে কতটুকু তেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো জানতে পারিনি।’
লরিচালক আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় বগুড়ার মোকামতলা থেকে ২০ টন অপরিশোধিত রাইস ব্রান অয়েল নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। একটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে লরিটি ছিদ্র হয়ে যায়।’
রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, লরির ছিদ্র হয়ে যাওয়া অংশ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে ছিদ্র থেকে বের হয়ে আসা তেল সংগ্রহ করতে হুড়োহুড়ি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কেউ বালতি, কেউ পাতিল নিয়ে তেল সংগ্রহ করছেন।
লরিচালক স্থানীয় বাসিন্দাদের জানিয়েছিলেন, লরিতে থাকা তেল অপরিশোধিত রাইস ব্রান অয়েল এবং এটি সরাসরি খাওয়া যাবে না। ব্যবহারের আগে তেলটি পরিশোধন করতে হবে। এরপরও অনেককে তেল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী মো. সাকিব বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর এলাকার অনেক মানুষ এসে এই তেল নিয়ে যাচ্ছে। শুনলাম, এই তেল পরিষ্কার বা পরিশোধিত নয়। খাওয়ার আগে এটি পরিশোধন করতে হবে।’
এদিকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে অন্য একটি লরিতে তেল স্থানান্তর করতে দেখা গেছে।
