ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রিটি গ্রুপের পার্কিংয়ে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের পর অনুমতি ছাড়া বিশেষ পদ্ধতিতে কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে স্থাপিত সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিএনজি স্টেশনগুলো।
আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর রহমান এই সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানান। তিনি একইসঙ্গে বাংলাদেশ সিএনজি অ্যাসোসিয়েশন উত্তরা, আশুলিয়া, নবীনগর, বাইপাইল ও চন্দ্রা জোনের জোনাল সভাপতি এবং বাইপাইলে অবস্থিত টিএস সিএনজি রিফুয়েলিং অ্যান্ড কনভার্সন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী।
তানভীর বলেন, ‘আগে তিতাস কাগজে-কলমে নিষেধ করলেও মৌখিকভাবে গ্যাস দিতে বলেছিল। কিন্তু যখন কোনো সমস্যা হয়, তখন এর দায় এসে পড়ে আমাদের ঘাড়ে। কাজেই আমরা আর এসবের মধ্যে নেই।’
‘প্রিটি গ্রুপের ঘটনার পর এই অঞ্চলের তিতাস কার্যালয় সিএনজি স্টেশনগুলোকে আবার চিঠি দিলেও অন্যান্য অঞ্চলে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। কাজেই এটি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করি না। কেননা উত্তরা-আশুলিয়া অঞ্চলে বন্ধ রাখা হলেও অন্যান্য অঞ্চল থেকে এসব কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সংগ্রহের সম্ভাবনা রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।
অবশ্য তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জোনাল বিক্রয় অফিস আশুলিয়ার ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আবু ছালেহ মুহাম্মদ খাদেমুদ্দীন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা আগেও তাদের সতর্ক করেছি, এখনো করছি। প্রিটির ঘটনার পর আবারও সিএনজি স্টেশনগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর ব্যত্যয় হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এর আগে তিতাস কেন ব্যবস্থা নেয়নি—প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট। আমরা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতা চাইবো।’
যোগাযোগ করা হলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সিএনজি স্টেশনগুলো মনিটরিং করার কথা প্রধানত তিতাস ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের। এই দপ্তরগুলো আমাদের কাছে প্রশাসনিক সাহায্য চাইলে আমরা তা করি।’
গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে প্রিটি গ্রুপের একটি কারখানা চত্বরে সিএনজি গ্যাস সিলিন্ডার বহনকারী কাভার্ড ভ্যান ও লরিতে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বিস্ফোরিত সিলিন্ডারগুলো উড়ে গিয়ে কারখানা ভবন ও আশপাশের বাসাবাড়ি-দোকানে আছড়ে পড়ে।
ওইদিনের ঘটনায় আটজন নিহত ও অন্তত ২৫ জন আহত হন।
