চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরে জাঁকজমক ও আনুষ্ঠানিকতার কোনো কমতি ছিল না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হলেও বড় কোনো অগ্রগতি আসেনি। সফরের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফল ছিল দুই দেশের বাণিজ্য সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো।
তবে এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত প্রতীকী ঘোষণাগুলোর একটি ছিল দুটি জায়ান্ট পান্ডাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর কথা। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর শি জিনপিংয়ের এই ঘোষণা আবারও সামনে আনল চীনের বহুল আলোচিত ‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’—যেখানে বন্ধুত্ব, কূটনৈতিক সদিচ্ছা ও সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে কয়েক দশক ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় পান্ডা পাঠিয়ে আসছে বেইজিং।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার জর্জিয়ার আটলান্টা চিড়িয়াখানায় যাচ্ছে দুটি জায়ান্ট পান্ডা—পিং পিং ও ফু শুয়াং।
আজ রোববার ভোরে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ছয় বছর বয়সী এই দুই পান্ডা। প্রায় ১৫ ঘণ্টার যাত্রা শেষে তাদের পৌঁছানোর কথা আটলান্টায়। চীনের ধার দেওয়া চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছর তারা সেখানেই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পান্ডা পাঠানোর এই ঘটনা নিছক প্রাণী বিনিময় নয়। কয়েক দশক ধরে বৈদেশিক সম্পর্ক জোরদার, বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়া এবং কখনো কখনো অসন্তোষ প্রকাশের কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবেও এই নিরীহ বাঁশখেকো সাদা-কালো প্রাণীটিকে ব্যবহার করে আসছে চীন। আন্তর্জাতিক সম্পর্কে এই কৌশলটিই পরিচিত ‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’ নামে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বেইজিংয়ের সম্পর্কের ওঠানামার মধ্যেও পান্ডার যাতায়াত সেই সম্পর্কের একটি প্রতীকী সূচক হয়ে উঠেছে।
পান্ডা ডিপ্লোমেসির শুরু যেভাবে
‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’ বলতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারে চীনের জায়ান্ট পান্ডা পাঠানোর কৌশলকে বোঝানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি চিড়িয়াখানায় উপহার বা ধারে পান্ডা পাঠিয়ে আসছে চীন। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের জনগণের মধ্যে ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বন্ধুত্বের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নত করতে পান্ডাকে ‘শুভেচ্ছা দূত’ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে বেইজিং।
শুরুতে পান্ডা উপহার দেওয়া হলেও পরে এই নীতি পরিবর্তন করে ধার হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়।
তবে পান্ডা কেবল বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবেই ব্যবহৃত হয়নি। কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হলে পান্ডা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ফলে পান্ডার আগমন বা প্রত্যাবর্তন অনেক সময় চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হয়।
পান্ডা ডিপ্লোমেসির ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়। রয়টার্সের ব্যাখ্যামূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৫৭ সালে তৎকালীন চীনা নেতা মাও সেতুং সোভিয়েত ইউনিয়নকে একটি পান্ডা উপহার দেন। ১৯৫৯ সালে আরও একটি পান্ডা পাঠানো হয়। এরপর ১৯৬৫ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় পাঁচটি পান্ডা পাঠানো হয় সমাজতান্ত্রিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে।
তবে বিবিসির ঐতিহাসিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, পান্ডাকে কূটনৈতিক প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস আরও পুরোনো হতে পারে এবং এর সূত্র তাং রাজবংশের সময়, অর্থাৎ ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে। আধুনিক রাষ্ট্রীয় ‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’র ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৫০-এর দশক থেকেই এর সুস্পষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পান্ডার সম্পর্ক
পান্ডা ডিপ্লোমেসির সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি শুরু হয় ১৯৭২ সালে। ওই বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর বেইজিং সরকার ওয়াশিংটনকে লিং লিং ও শিং শিং নামের দুটি জায়ান্ট পান্ডা উপহার দেয়।
এএফপি ও বিবিসির প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দুই দশকেরও বেশি সময়ের শীতল সম্পর্কের পর নিক্সনের চীন সফর নতুন সম্পর্কের দরজা খুলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে পান্ডা উপহার ছিল বন্ধুত্বের দৃশ্যমান প্রতীক।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে পান্ডা পাঠানোর ইতিহাস ১৯৭২ সালের আগেই শুরু হয়েছিল। বিবিসি বলছে, ১৯৪১ সালে চীনে যুদ্ধের সময় শরণার্থীদের সহায়তার জন্য চীনা নেতা চিয়াং কাই-শেকের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রকে দুটি পান্ডা দেওয়া হয়েছিল।
১৯৮৪ সাল ছিল পান্ডা ডিপ্লোমেসির একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। পান্ডার সংখ্যা কমে যাওয়ায় চীন উপহার দেওয়া বন্ধ করে এবং বিদেশি চিড়িয়াখানায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ধারে পান্ডা পাঠানোর নীতি গ্রহণ করে। সাধারণত এক জোড়া পান্ডা ১০ বছরের জন্য ধার দেওয়া হয়।
এর জন্য সংশ্লিষ্ট চিড়িয়াখানাকে বছরে প্রায় ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত দিতে হতে পারে। এর পাশাপাশি পান্ডার জন্য বিশেষ আবাসন, খাবার, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যয়ও বহন করতে হয়। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে পান্ডা সাধারণত চীনে ফিরিয়ে আনা হয়। বিদেশে জন্ম নেওয়া পান্ডার বাচ্চাদেরও সাধারণত দুই থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে চীনে পাঠানো হয়।
চীনের এই ব্যবস্থায় পান্ডাগুলো কার্যত চীনের সম্পদ হিসেবেই থাকে। টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন বিশ্বের প্রায় সব জায়ান্ট পান্ডার মালিকানা দাবি করে এবং কোন দেশ পান্ডা পাবে, সে সিদ্ধান্তও বেইজিং নেয়।
বাণিজ্য ও কূটনীতির সঙ্গে যোগসূত্র
পান্ডা ডিপ্লোমেসি শুধু সাংস্কৃতিক বন্ধুত্বের বিষয় নয়—এর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের যোগসূত্র নিয়েও গবেষণা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে ২০১৩ সালের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই গবেষণায় দেখা যায়—কানাডা, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়ায় ধারে পান্ডা পাঠানোর সময়ের সঙ্গে চীনের ইউরেনিয়াম ও বাণিজ্যিক চুক্তির সময়ের মিল ছিল। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের ক্ষেত্রেও পান্ডা চুক্তির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের সময়ের মিল পাওয়া যায়।
তবে এসব গবেষণা মূলত সময়ের মিল বা সম্পর্কের কথা বলেছে। সরাসরি কোনো বাণিজ্যিক চুক্তির বিনিময়ে পান্ডা পাঠানো হয়েছিল—এমন সিদ্ধান্ত এসব প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।
পান্ডা ফিরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও কূটনৈতিক বার্তা বহন করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ২০১০ সালে তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামার সঙ্গে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বৈঠকের পরিকল্পনা নিয়ে বেইজিং সতর্ক করার পর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া দুটি পান্ডা তাই শান ও মেই লানকে চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
জাপানের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাইওয়ান নিয়ে টোকিওর অবস্থান ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে জাপান থেকে দুটি পান্ডা চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এর ফলে ১৯৭২ সালের পর প্রথমবারের মতো জাপানে কোনো জায়ান্ট পান্ডা না থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও পান্ডা সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এমএইচ৩৭০ নিখোঁজ হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে মালয়েশিয়ায় দুটি পান্ডার আগমনকে শান্তির বার্তা হিসেবে দেখা হয়েছিল।
‘পান্ডা ডিপ্লোমেসি’ কতটা কার্যকর?
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পান্ডা ডিপ্লোমেসির নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় ইউন চুয়ান ও শিন বাও নামের দুটি পান্ডা পৌঁছায়। রয়টার্সের হিসাবে, দুই দশকেরও বেশি সময় পর নতুন করে চীন থেকে পান্ডা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঘটনা ছিল এটি। একই বছর ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল জুওলজিক্যাল পার্কেও আরেক জোড়া পান্ডা পাঠানো হয়।
এবার আটলান্টার পালা। পিং পিং ও ফু শুয়াংকে ১০ বছরের জন্য পাঠানো হচ্ছে। আটলান্টা চিড়িয়াখানায় আগে ১৯৯৯ সাল থেকে প্রায় ২৫ বছর চীনা পান্ডা ছিল। ২০২৪ সালের পর সেখানে আর কোনো পান্ডা ছিল না। নতুন অতিথিদের জন্য চিড়িয়াখানাটি পান্ডার আবাসন সংস্কার করেছে এবং স্থানীয়ভাবে বাঁশের স্থায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করেছে।
পিং পিং ২০২০ সালের ১৭ মার্চ জন্ম নেওয়া পুরুষ পান্ডা। এই নামের অর্থ ‘শান্তি’। ফু শুয়াং একই বছরের ১৮ অক্টোবর জন্ম নেওয়া স্ত্রী পান্ডা, এর নামের অর্থ ‘দ্বিগুণ আশীর্বাদ’।
প্রায় ১৫ ঘণ্টার যাত্রায় তাদের জন্য ভুট্টার ভাপা বান, বাঁশের কঞ্চি ও গাজর প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারীরাও তাদের সঙ্গে উড়োজাহাজে থাকছেন। আটলান্টায় পৌঁছানোর পর পান্ডা দুটিকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।
পান্ডা ডিপ্লোমেসির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রাণী সংরক্ষণ ও গবেষণা। চীনের নিজস্ব সংরক্ষণ কর্মসূচির ফলে বন্য পরিবেশে জায়ান্ট পান্ডার সংখ্যা ১৯৮০-এর দশকে প্রায় ১ হাজার ১০০ থেকে বেড়ে ২০২৩ সালে প্রায় ১ হাজার ৯০০ হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
বিশ্বজুড়ে চিড়িয়াখানা ও প্রজননকেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ৭২৮টি পান্ডা রয়েছে। চীনের সংরক্ষণ ব্যবস্থায় জায়ান্ট পান্ডার মর্যাদা ‘বিপন্ন’ থেকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে।
বিদেশি চিড়িয়াখানায় পান্ডা রাখার মাধ্যমে চীন যৌথ গবেষণা ও প্রজনন কার্যক্রমও পরিচালনা করে। সান দিয়েগো চিড়িয়াখানার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের গবেষক, বিজ্ঞানী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেছে বিবিসি।
তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পান্ডার প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক জা ইয়ান চংয়ের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।
তার মতে, চীনের বিভিন্ন কর্মসূচি এখন মানুষের কাছে বেশি দৃশ্যমান হওয়ায় পান্ডার ‘কোমল ও বন্ধুত্বপূর্ণ’ ভাবমূর্তি আগের মতো একই প্রভাব নাও তৈরি করতে পারে।
ইউনিভার্সিটি অব কানেকটিকাটের ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, সরকারি উৎস থেকে নেওয়া নয়—এমন পান্ডার ভিডিও দেখার পর মার্কিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনা সংস্কৃতি এবং পরে চীনের মানুষের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
তবে ২০২৬ সালে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনওআরসির এক জরিপে দেখা যায়—যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন, মার্কিন চিড়িয়াখানায় পান্ডা পাঠানো হলে চীন সম্পর্কে তাদের ধারণা উন্নত হবে। একই জরিপে আরও বেশি মানুষ চীনের পক্ষ থেকে ফেন্টানিলের কাঁচামাল নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা বা বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো বাস্তব পদক্ষেপকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অর্থাৎ, পান্ডা মানুষের মধ্যে আবেগ ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি করতে পারলেও তা সরাসরি একটি দেশের পররাষ্ট্রনীতি বা ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি সমর্থনে রূপান্তরিত হয়—এমন প্রমাণ নেই।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ পান্ডা?
চীনের পান্ডা ডিপ্লোমেসিকে অনেক গবেষক ‘সফট পাওয়ার’ বা প্রভাব বিস্তারকারীর অংশ হিসেবে দেখছেন। পান্ডার ব্যবহার চীনের সাংস্কৃতিক আকর্ষণ ও প্রভাব বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে দেশটির প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৃষ্টিভঙ্গি জটিল হলেও পান্ডা তুলনামূলকভাবে কোমল, অরাজনৈতিক ও জনপ্রিয় একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
জায়ান্ট পান্ডা চীনের জাতীয় প্রতীকের পাশাপাশি দেশটির সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পান্ডা প্রজননকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে ২৪০টিরও বেশি পান্ডা রয়েছে, যা বিশ্বে বন্দিদশায় থাকা পান্ডার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
পান্ডার জনপ্রিয়তা, বিরলতা ও চীনের সঙ্গে তাদের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কই প্রাণীটিকে কূটনৈতিক ভব্যতার প্রতীকে পরিণত করেছে। একটি পান্ডার আগমন কেবল চিড়িয়াখানার নতুন আকর্ষণ নয়, এর সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা এবং কখনো কখনো অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও প্রতীকী অর্থও জড়িয়ে থাকে।
পিং পিং ও ফু শুয়াংয়ের আটলান্টা যাত্রাও সেই দীর্ঘ ইতিহাসের সর্বশেষ অধ্যায়।
শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক সফরের পর পান্ডাগুলো যুক্তরাষ্ট্র পাঠানোকে একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যুক্তরাষ্ট্রের পান্ডাগুলোর উপস্থিতি বিবদমান দুই শীর্ষ সামরিক শক্তিধর দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উষ্ণতা কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে?
