ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড। গাজা সংঘাতের ঘটনায় প্রাণ হারানো সব মানুষের স্মরণে তারা এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জানিয়েছে, নির্ধারিত এই ম্যাচটিতে তারা শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করবে।
BREAKING: Republic of Ireland goalkeeper Gavin Bazunu says he will withdraw from the side’s upcoming UEFA Nations League matches against Israel.https://t.co/svhTJCY1oO
📺 Sky 501, Virgin 602, Freeview 233 and YouTube pic.twitter.com/INnvQgGYLN
— Sky News (@SkyNews) September 26, 2026
তবে এই ম্যাচের আগে আয়ারল্যান্ড শিবিরে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। ম্যাচ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন দলটির গোলকিপার গ্যাভিন বাজুনু। এফএআই-এর প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল জানান, বাজুনুর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি হয়। সেখানে অধিকাংশ ফুটবলার খেলার পক্ষে সায় দিলে অনিশ্চয়তা কাটে।
রোববার হাঙ্গেরির ডেব্রেসনে ইসরায়েলের বিপক্ষে ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচটিতে আয়ারল্যান্ড দল কালো আর্মব্যান্ড পরবে। এরপর আগামী রোববার সার্বিয়ায় ‘হোম’ ম্যাচটিতেও খেলবে তারা। এফএআই জানিয়েছে, ম্যাচটি চলাকালে এবং ম্যাচের আগে কিছু আনুষ্ঠানিকতা তারা বর্জন করবে। পাশাপাশি, ইসরায়েল এবং পরবর্তী অস্ট্রিয়া ম্যাচের পুরো ফি বা ভাতা দাতব্য সংস্থায় দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুটবলাররা।
উয়েফা নেশনস লিগের বি৩ গ্রুপে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল একই গ্রুপে পড়ার পর থেকেই বিতর্ক দানা বাঁধে। গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলা বয়কট করার জন্য আয়ারল্যান্ড ফুটবল দলের ওপর তীব্র সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ ছিল। ‘আইরিশ স্পোর্ট ফর প্যালেস্টাইন’ নামে একটি সংগঠন ‘স্টপ দ্য গেম’ ক্যাম্পেইন শুরু করে ম্যাচ দুটি বাতিলের দাবি তোলে।
শনিবারের পরিস্থিতি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। সকাল পৌনে দশটায় নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার ঠিক ১৫ মিনিট আগে তা স্থগিত করা হয়। মূলত হোটেলেই দলবদ্ধ হয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন ফুটবলাররা। সেখানে গোলকিপার গ্যাভিন বাজুনু ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেওয়ার পর অন্যান্য খেলোয়াড়রাও তাদের ক্ষোভ ও উদ্বেগের কথা জানান। দীর্ঘ চার ঘণ্টার আলোচনা ও ভোটাভুটির পর দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এফএআই প্রধান নির্বাহী ডেভিড কারেল বলেন, ‘সকালে আমাদের একজন ফুটবলার এই ম্যাচ খেলতে নিজের অস্বস্তির কথা জানান এবং দল থেকে নাম তুলে নেন। এই পরিস্থিতিতে পুরো দল বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হয়। চার ঘণ্টা ধরে খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডের মধ্যে কথা হয়েছে। সবাই সবার মতামত প্রকাশ করেছেন এবং আমরা প্রত্যেকের অবস্থানকে সম্মান জানাই।’
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান গোলকিপার গ্যাভিন বাজুনু। তিনি লেখেন, ‘সিদ্ধান্তটি নেওয়া আমার জন্য সহজ ছিল না। আমি নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী একজন মানুষ। তাই আমার মনে হয়েছে, ইসরায়েলের বিপক্ষে এই ম্যাচে অংশ নেওয়া আমার নৈতিকতার পরিপন্থী হবে। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার প্রতিবাদেই আমার এই অবস্থান। আমি স্পষ্ট করতে চাই, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিরুদ্ধে নয়; বরং ওই অঞ্চলে চলা নারকীয় তাণ্ডবের বিরুদ্ধে। জীবনে খুব কম সময়ই নীতি ও আদর্শের জন্য শক্ত হয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ আসে, এটি তেমনই একটি সময়।’
