অ্যানফিল্ডে ম্যান সিটির সমর্থকদের হাতে বায়ুপূর্ণ খেলনা কলা, কারণ কী?

অ্যানফিল্ড সফরে ম্যানচেস্টার সিটির লড়াইটা কেবল ৯০ মিনিটের সাধারণ একটি ফুটবল ম্যাচ ছিল না। তাদের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে স্বাধীন কমিশনের রিপোর্টের পর এমনিতেই উত্তেজনার পারদ চড়ে ছিল চরমে। তার ওপর লিভারপুলের সমর্থকদের চেনা সেই বৈরিতা তো ছিলই।

কিন্তু উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর টিটকারির মাঝেও সবার নজর কেড়ে নেয় অন্য একটি চমকপ্রদ দৃশ্য— সিটির সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারিতে দেখা যায় শত শত উজ্জ্বল হলুদ বায়ুপূর্ণ খেলনা কলা!

হঠাৎ কোনো প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে এটি আসেনি। বরং প্রায় চার দশক ধরে সিটির সমর্থকদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে থাকা এই অদ্ভুত ও মজার ঐতিহ্যই গতকাল রোববার রাতে আবার জীবন্ত হয়ে ওঠে।

এই গল্পের শুরু ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে। তৎকালীন ফরোয়ার্ড ইমরে ভারাদির একটি ডাকনামকে কেন্দ্র করে এর সূত্রপাত। ১৯৮৬ সালে ওয়েস্ট ব্রমউইচ অ্যালবিয়ন থেকে ম্যান সিটিতে যোগ দেওয়া ভারাদিকে এক সমর্থক গ্যালারিতে কলা দেখিয়ে মজা করে ডাকতেন ‘ইমরে ব্যানানা’ নামে। দেখতে দেখতে এই রসিকতা পুরো গ্যালারিতে ছড়িয়ে পড়ে।

স্মৃতিচারণ করে পরবর্তীতে ভারাদি বলেন, ‘এক সন্ধ্যায় আমি জগিং করতে মাঠে নামছি, দেখি কে যেন একটা কলা নাড়াচ্ছে। তারা আমাকে “ইমরে ব্যানানা” বলে ডাকতে শুরু করল আর আমি মনে মনে ভাবছি, ব্যাপার কী! পরের ম্যাচে দেখি পঁচিশ-ত্রিশটা কলা এবং সবাই আমাকে ইমরে ব্যানানা বলে ডাকছে।’

পরবর্তীতে ফ্র‍্যাঙ্ক নিউটন নামের একজন সমর্থক প্লাইমাউথ আরগাইলের বিপক্ষে ম্যাচে বড় একটা বায়ুপূর্ণ খেলনা কলা নিয়ে হাজির হন। ব্যস, এরপর থেকেই কলার পাশাপাশি হাঙ্গর বা ডাইনোসরের মতো মজার সব বায়ুপূর্ণ ও বিশাল আকারের খেলনা নিয়ে গ্যালারিতে হাজির হওয়া শুরু করেন সমর্থকরা।

ভারাদির মতে, ওই সময় ফুটবল যখন চারদিক থেকে নানা সমালোচনায় বিদ্ধ ছিল, তখন এরকম মজার ঘটনার মাধ্যমেই সমর্থকরা খেলাটিতে বিনোদন ফিরিয়ে এনেছিলেন।

তবে এত বছর পর অ্যানফিল্ডে এই কলার বহর ফিরে আসার পেছনে ছিল অন্য কারণ। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে স্বাধীন কমিশনের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এটি ছিল সিটির প্রথম ম্যাচ। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে আপিলের কথা জানানো হলেও লিভারপুল সমর্থকদের সঙ্গে কথার লড়াই তুঙ্গে ওঠে।

এমন থমথমে পরিস্থিতিতে সিটির ‘১৮৯৪’ নামের সমর্থক গোষ্ঠী প্রায় এক হাজার বায়ুপূর্ণ খেলনা কলা বিতরণ করে সফরকারী দর্শকদের মাঝে। খেলোয়াড়রা মাঠে নামার সময় পুরো গ্যালারিতে সেই হলুদ কলার ঢেউ খেলে যায়। সিটির ভক্তরা ক্লাবটির চেয়ারম্যান খালদুন আল-মুবারকের পক্ষে স্লোগান দিয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দেন।

ম্যান সিটির ইতিহাস কখনো উত্থানের, কখনো অবনমনের। কিন্তু ক্লাবের এই সুদিন-দুর্দিনের গল্পে সমর্থকরা নিজেদের কৌতুক আর ঐতিহ্যকে ঠিকই বাঁচিয়ে রেখেছেন। মাঠের লড়াইয়েও শেষ হাসি হেসেছে সিটিই। লিভারপুলের মাঠে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তারা।

Related Articles

Latest Posts