মঙ্গলবার আবুধাবিতে টেস্টের শেষ দিনের শেষ সেশনে যা ঘটল, এমন রোমাঞ্চ ও নাটকীয়তা লাল বলের ক্রিকেটে সচরাচর দেখা যায় না। পাঁচ দিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র চারটি উইকেট। অন্যদিকে, ম্যাচ বাঁচাতে আফগানিস্তানকে ২২ গজে কাটাতে হতো ৩০ ওভারেরও বেশি।
এরপর যা হলো, তা বাংলাদেশের একের পর এক কৌতুকময় ভুল আর আফগানিস্তানের অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়ার গল্প। স্টাম্পে বল লেগেও বেল পড়ল না, সহজ ক্যাচ হাতছাড়া হলো এবং নিশ্চিত রানআউটগুলো মিলল না এলোমেলো থ্রোয়ের কারণে।
বারবার জীবন পাওয়ার এসব সুযোগ কাজে লাগিয়ে আর পেশিতে টান লাগার ভান ধরে কৌশলগত সময়ক্ষেপণ করে শেষ পর্যন্ত দুই দলের একমাত্র টেস্টে অসামান্য ড্র করে মাঠ ছাড়ল আফগানিস্তান।
১১৮.৪ ওভার: অবশেষে ভাঙল অটলের প্রতিরোধ
ক্রিজে জমে গিয়ে ৩৩২ বলে ১১১ রানের দারুণ ইনিংস খেলা সেদিকউল্লাহ অটলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের আশা দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ব্যাটে সামান্য ছুঁয়ে প্যাডে লেগে বল যায় শর্ট লেগে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের হাতে। ওপেনিংয়ে নামা অটল রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি, সপ্তম উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
১২০.৫ ওভার: পড়ল না বেল
তাইজুলের বল ইয়ামিন আহমদজাইয়ের ব্যাটে লাগার পর গড়িয়ে গড়িয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। তবে গতি কম থাকায় বেল থেকে যায় অক্ষত! উইকেটরক্ষক লিটন দাসসহ বাকি ফিল্ডাররা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন। তখন ইয়ামিন ছিলেন ৫ রানে।
১২১.১-১২১.২ ওভার: দুটি রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া
ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউটের মুখে পড়েন কাইস আহমেদ। কিন্তু খুব কাছ থেকেও নাঈম হাসান থ্রো রাখতে পারেননি স্টাম্পে। অথচ কাইস ক্রিজ থেকে ছিলেন অনেক দূরে। ঠিক পরের বলেই আবার রানআউটের সুযোগ তৈরি হয়। এবার থ্রো ঠিকঠাক এলেও নাঈম ছিলেন স্টাম্পের সামনে। পেছনে থাকলে বল ধরে আরও দ্রুত বেল ফেলতে পারতেন তিনি। রিপ্লেতে দেখা যায়, সূক্ষ্ম ব্যবধানে ক্রিজে পৌঁছে গেছেন ইয়ামিন।
১২২.৪ ওভার: অল্পের জন্য ফের বেঁচে গেলেন কাইস
ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে তাইজুলের ফ্লাইটে পরাস্ত হয়ে ভারসাম্য হারান কাইস। বল প্যাডে লেগে সিলি পয়েন্টের দিকে যায়। সেখানে থাকা ফিল্ডারের থ্রো ধরে নিমেষে বেল ফেলে দেন লিটন। কিন্তু ঠিক সময়েই পা ভেতরে টেনে নেন কাইস।
১২৬.৩ ওভার: হাতছাড়া আরও এক সুযোগ
তাইজুলের বলে সিলি পয়েন্টের দিকে বেশ কঠিন ক্যাচ তুলে দেন কাইস। তবে মুমিনুল হক তা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। নয় নম্বরে নেমে ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা এই ব্যাটার পান আরেক দফা জীবন।
১৩০.৫ ওভার: হাসানের ক্যাচ মিসে আরও একবার জীবন পেলেন কাইস
স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটের দিকে ক্যাচ তুলে দেন কাইস। জুটি ভেঙে কাঙ্ক্ষিত ব্রেক-থ্রু আনার বেশ সহজ একটি সুযোগ ছিল বাংলাদেশের জন্য। হাসান মাহমুদ ডাইভ দিয়ে দুই হাত বলের নিচে নিলেও ক্যাচটি হাতে জমাতে পারেননি। অবিশ্বাস্যভাবে আবার বেঁচে যান কাইস।
১৩৬.৬ ওভার: মিরাজের সৌজন্যে আশার আলো
অবশেষে ক্রিজে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ইয়ামিনের (৮৫ বলে ১৯ রান) প্রতিরোধ ভাঙেন মিরাজ। হাওয়ায় ভাসানো ডেলিভারি খেলতে গিয়ে শর্ট লেগের দিকে বল তোলেন তিনি। সেখানে অসাধারণ ডাইভে ক্যাচ লুফে নেন মুমিনুল। ৩২৬ রানে ৮ উইকেট হারানো আফগানিস্তানের শেষ ২ উইকেট তুলে নিতে বাংলাদেশের হাতে দাঁড়ায় মাত্র ৫ ওভার।
১৩৯.৩ ওভার: কাইসের কৌশলগত সময়ক্ষেপণ
হঠাৎ করেই পেশিতে টান ধরার ভঙ্গিতে মাঠে লুটিয়ে পড়েন কাইস। আফগানিস্তানের ফিজিও প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কৌশলে সময়ে কাটাতে থাকেন। তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেননি বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
১৪১.২–১৪১.৬ ওভার: দুই ছক্কায় সেশনের ইতি
দিনের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে তাইজুলকে লং-অফের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান কাইস। তিনটি বল ঠান্ডা মাথায় ঠেকানোর পর ম্যাচের একদম শেষ বলটিতে কাউ কর্নারের ওপর দিয়ে তিনি মারেন আরেকটি বিশাল ছক্কা। মাত্র ১ রানের জন্য হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও ৮০ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থেকে পাগলাটে এই সেশনের ইতি টেনে দলের ড্র নিশ্চিত করেন তিনি।
