অস্ট্রেলিয়ার তারকা লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পাকে দলে ভিড়িয়েছে হোবার্ট হারিকেনস। স্বাভাবিকভাবেই নতুন মৌসুমে দলটির স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা হওয়ার কথা তার। তাতে বাংলাদেশি লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারত। কিন্তু জাম্পাকে পেয়েও রিশাদকে ছাড়তে চায়নি হোবার্ট। বরং তাকে আবারও দলে ফেরাতে সব রকম চেষ্টাই করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। কেন এমন সিদ্ধান্ত, সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন দলটির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সালিয়ান বিমস।
আগামী বিগ ব্যাশ মৌসুমের জন্য রিশাদকে আবারও দলে নিয়েছে হোবার্ট হারিকেনস। ফলে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ার এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলবেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার। এবার তাঁর সঙ্গে স্পিন আক্রমণে থাকবেন মেলবোর্ন রেনেগেডস ছেড়ে হোবার্টে যোগ দেওয়া জাম্পা।
অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে বিমস জানিয়েছেন, রিশাদকে আবারও দলে নেওয়ার পেছনে বড় কারণ তার নিজের আগ্রহ। গত মৌসুমে হোবার্টে কাটানো সময়টা এতটাই উপভোগ করেছিলেন যে, আবারও সেখানে ফিরতে চেয়েছিলেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তার এমন আগ্রহকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বিমস বলেন, ‘রিশাদ আমাদের স্পষ্ট করেই জানিয়েছিল, গত মৌসুমে হোবার্টে সময়টা সে দারুণ উপভোগ করেছে এবং আবারও ফিরতে চায়। তার এই আগ্রহ আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
জাম্পাকে দলে নেওয়ার পর হোবার্টের স্কোয়াডের পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আসে। তবে রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন বোলারকে আবারও পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাননি দলটির কর্মকর্তারা।
এ প্রসঙ্গে বিমস বলেন, ‘অ্যাডাম জাম্পাকে দলে নেওয়ার পর আমাদের স্কোয়াডের চেহারা কিছুটা বদলে গিয়েছিল। কিন্তু রিশাদের মতো মানসম্পন্ন একজন ক্রিকেটার যখন এতটা আগ্রহ নিয়ে হোবার্টে ফিরতে চায়, তখন তাকে ফেরানোর সম্ভাব্য সব পথই আমরা খুঁজতে চেয়েছি।’
অবশ্য শুধু রিশাদের ফেরার আগ্রহই নয়, গত মৌসুমের পারফরম্যান্সও তাকে আবারও দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে নেমেই হোবার্টের বোলিং আক্রমণের অন্যতম সেরা অস্ত্র হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশি এই স্পিনার।
গত মৌসুমে ১২ ম্যাচে ২০.৮৬ গড়ে ১৫ উইকেট শিকার করেন রিশাদ। ওভারপ্রতি রান খরচ করেন ৭.৮২। তাঁর সেরা বোলিং ছিল ২৬ রানে ৩ উইকেট। দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হওয়ার পাশাপাশি হোবার্ট হারিকেনসের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও জেতেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে প্রথমবার খেলতে নেমেই রিশাদের এমন পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে বিমসকে, ‘গত মৌসুমে সে আমাদের হয়ে অসাধারণ খেলেছে। প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে এসে প্রতিটি ম্যাচে মাঠে নামা এবং দলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে মৌসুম শেষ করা প্রমাণ করে, সে কতটা ভালো বোলার। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে কত দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও দেখিয়েছে।’
তবে রিশাদকে ফেরানোর পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। জাম্পা ও রিশাদ দুজনই লেগ স্পিনার হলেও তাদের শক্তির জায়গা আলাদা। আর এই বৈচিত্র্যই হোবার্টের বোলিং আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তুলবে বলে মনে করেন বিমস, ‘এখন আমাদের দলে দুজন উচ্চমানের লেগ স্পিনার আছে। তাদের দুজনের শক্তির জায়গা আলাদা। ফলে কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের ধরন অনুযায়ী আমাদের সামনে বেশ কিছু দারুণ বিকল্প থাকবে।’
বিশ্ব ক্রিকেটে জাম্পার অভিজ্ঞতা ও সাফল্য নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে গত মৌসুমে রিশাদও দেখিয়েছেন, বিশেষ করে ইনিংসের মাঝের ওভারগুলোতে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন তিনি। তাই দুই লেগ স্পিনারকে একসঙ্গে পাওয়াকে বাড়তি সুবিধা হিসেবেই দেখছে হোবার্ট।
বিমস বলেন, ‘অ্যাডাম দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা সাদা বলের বোলার। অন্যদিকে গত মৌসুমে আমরা দেখেছি, মাঝের ওভারগুলোতে রিশাদ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। দুজনকে একসঙ্গে পাওয়ায় আমাদের হাতে অনেক বেশি বিকল্প থাকবে এবং বোলিং আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ হবে।’
হোবার্টের সঙ্গে রিশাদের সম্পর্ক অবশ্য আরও আগে থেকেই। বিগ ব্যাশের ১৪তম আসরের ড্রাফটে তাকে দলে নিয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। তবে বিপিএলের ব্যস্ততায় সেবার হোবার্টের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার। পরের মৌসুমে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন বাংলাদেশি এই স্পিনার।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নতুন বিগ ব্যাশ মৌসুম শুরু করবে হোবার্ট হারিকেনস।
