লক্ষ্য ছিল ২৭২, সেটা তাড়া করতে নেমে শুরুটাও হয়েছিল ভালো। এরপর তাসের ঘরের মতো ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। জেতার কাছে যাওয়া দূরে থাক, লড়াইয়ের আভাসও তৈরি করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়রা। ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের পর ব্যাটারদের দায় দিলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। ব্যাটারদের ধারাবাহিকতা, ম্যাচ বোঝার ঘাটতি নিয়ে অকপটে সমালোচনা করলেন তিনি।
আবুধাবিতে ২৭২ রান তাড়ায় বাংলাদেশ টেনেটুনে করতে পারে ১৭২। এই ম্যাচে শুরুতে তিন উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার ছেঁটে ফেলা তাসকিন মনে করেন বোলাররা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করছেন, ব্যাটাররা বারবার করছেন হতাশ। সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবেই হারের পেছনে ব্যাটিং বিভাগকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি, ‘২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো রান ছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অন্তত—তাদের নিজেদের মাঠের হলে কথা ভিন্ন, সেখানে তারা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল—তবে এই উইকেটে আমাদের রানটা তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলে একেবারেই ভালো খেলিনি। আমাদের এই রান টপকে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটা জুটি গড়ে তুলতেও পারিনি।’
দলের জয়ে ব্যাটারদের ভূমিকা আরও বেশি থাকা উচিত ছিল মনে করে তিনি যোগ করেন, ‘ব্যাটিংয়ের দিক থেকে বললে, আমি মনে করি এই ম্যাচটা আমাদের ব্যাটারদেরই জেতানো উচিত ছিল। দুর্ভাগ্যবশত তারা তা পারেনি। তবে এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে।’
বোলিং বিভাগ ইদানীং ধারাবাহিকভাবে ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে বারবার একই ভুলের পুনরাবৃত্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই গতি তারকা, ‘ব্যাটিংয়ে বারবার একই ধরনের ভুল করা হচ্ছে। সে তুলনায় বোলিংয়ে ধারাবাহিকতা কিছুটা হলেও ভালো।’
অতীতে ভালো খেলার রেকর্ড থাকলেও ধারাবাহিকতার অভাবকেই মূল বাধা হিসেবে দেখছেন তাসকিন, ‘আমাদের যেসব ব্যাটার আছে, তাদের কিন্তু অতীতে দারুণ সব ইনিংস খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সমস্যাটা হচ্ছে ধারাবাহিকতায়। আমাদের এই ধারাবাহিকতা আর ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝে খেলার সামর্থ্য বাড়াতে হবে, অন্তত আমি ব্যক্তিগতভাবে সেটাই মনে করি।’
সমালোচনার পাশাপাশি অবশ্য পরে সতীর্থদের পাশেও দাঁড়িয়েছেন তিনি, ‘আমি নিশ্চিত আমাদের ব্যাটাররা অনেক পরিশ্রম করছে এবং আশা করি তারা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে সামনের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ সামনে আরো একটি ম্যাচ বাকি আছে, তবে এই সমস্যাগুলো খুব দ্রুতই সমাধান করা জরুরি।’
