জোমেল ওয়ারিকনের ৭৪তম ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে ৯৯-এ গেলেন সাদমান ইসলাম। পরের ওভারেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করবেন এমন সম্ভাবনায় সবাই যখন নড়েচড়ে বসেছেন, তখনই ফের খেলা থামিয়ে দিল আলোকস্বল্পতা। মাঠ ছেড়ে ধীরলয়ে বেরিয়ে যাওয়া সাদমান ও লিটন দাস দুজনের মুখেই তখন হাসি। এর আগে ৯৬ রানেও একবার একই কারণে অপেক্ষায় পড়তে হয় সাদমানকে।
বুধবার মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে শেষ সেশনে দুবার বাধা হয়ে দাঁড়াল কম আলো। প্রথম দিনে অপ্রত্যাশিত কারণে খেলা শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২১৩। ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরির খুব কাছে যাওয়া সাদমান অপরাজিত আছেন ৯৯ রানে। ধীরলয়ে খেলা ইনিংসে তিনি বল সামলেছেন ২১৯টি।
তাওহিদ হৃদয় পেশির টানে বেরিয়ে যাওয়ার পর ক্রিজে আসা লিটন দাস অপরাজিত ২৮ বলে ১০ রানে।
পুরো দিনে ওভারপ্রতি ২.৮৬ করে রান তুলেছে বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের আঁটসাঁট বোলিং, উইকেটের কিছুটা অসমান বাউন্স ও টার্নের ভিড়ে ক্রিজ আঁকড়ে থাকার দিকে মন দেন সাদমান। মন্থর গতিতে খেলায় রানের চাকা গতি পায়নি খুব একটা। তবে কেবল ৩ উইকেট হারানোয় বেশ বড় পুঁজির ভিত হয়েই গেছে।
জেডন সিলসের বলে থিতু হওয়ার আগেই স্লিপে ধরা দেন তানজিদ হাসান তামিম। মুমিনুল হক পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে থিতু হলেও ফেরেন বাজে শটে। অধিনায়ক শান্ত লাঞ্চের পর সুইপ করতে গিয়ে হন এলবিডব্লিউ। আউট হওয়ার আগে তিনিও সময় নিয়ে হয়েছিলেন থিতু।
দলের ভীষণ প্রয়োজনে তাওহিদ হৃদয়কে নিয়ে বড় জুটি পেয়ে যান সাদমান। দুজনেই খেলছিলেন অনায়াসে। সাদমান ঝুঁকির কোনো পথই নেননি। টেম্পারমেন্টের পরীক্ষায় উত্রে বাংলাদেশকে দিতে থাকেন ভরসা। এই জুটি যখন শতরানের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই ধাক্কা আসে অপ্রত্যাশিত কারণে।
পরে লিটনকে নিয়ে এগোতে থাকেন সাদমান। ২০৭ রানে যেতে আলোকস্বল্পতায় প্রথমবার বন্ধ হয় খেলা। তখন আলো খালি চোখে খুব কম মনে হয়নি। তখন ৯৬ রানে অপরাজিত সাদমান। ফের খেলা শুরু করেও বেশিক্ষণ চালানো গেল না। ৪ ওভার পরই আবার কম আলোর বাধা। ৪টা ২৫ মিনিটে খেলা থামার পর ৪টা ৪৫ পর্যন্ত অপেক্ষা করে দিনের সমাপ্তি টানা হয়। ১৬ ওভার কম থাকতেই শেষ হয় প্রথম দিন, সাদমান থেকে যান অপেক্ষায়।
