ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।
বুথফেরত জরিপে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলেছে। এর মধ্যেই শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠনের অঙ্গীকার করেছেন নেতানিয়াহু।
বুধবার সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি শক্তিশালী ডানপন্থি সরকার গঠন করতে হবে।’ ইসরায়েলি আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের বিরোধিতাও করেন তিনি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু সরাসরি বিজয় দাবি করেননি। তবে তার দল লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ও তার অতি ডানপন্থি এবং কট্টর ধর্মীয় মিত্ররা ৫১ থেকে ৫২টি আসন পেতে পারে।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তার ‘চেঞ্জ ব্লক’-এর তিনটি ইহুদি দলও প্রায় ৫১টি আসন পেতে পারে। ফলে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বুথফেরত জরিপে আরব দলগুলোর জন্য ১৮ থেকে ১৯টি আসনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য রেকর্ড হতে পারে। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক।
বিবিসির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ইসরায়েলের সম্প্রচারমাধ্যম কান ও চ্যানেল ১৩-এর প্রকাশ করা হালনাগাদ বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের জোট ৫১টি করে আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, চ্যানেল ১২-এর প্রচার করা খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি এবং আইজেনকোটের জোট ৪৯টি আসন পেতে পারে।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৯ সালের পর ওই সময় পর্যন্ত এটিই ছিল সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
বিবিসি জানিয়েছে, বুধবার রাত থেকে আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ শুরু হওয়ার কথা। তবে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ভোটসহ প্রায় ছয় লাখ অনুপস্থিত ভোট গণনা বৃহস্পতিবারের আগে শেষ হবে না। এসব ভোট মোট ভোটের প্রায় ১০ শতাংশ।
চূড়ান্ত ফল নিশ্চিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি এমন দলীয় নেতাকে দায়িত্ব নেওয়ার আমন্ত্রণ জানাবেন। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত নতুন নির্বাচন হতে পারে।
