১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল পরপর দুবার বিশ্বকাপ শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারেনি। স্পেনের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনাল জিততে পারলে দুর্লভ এই রেকর্ডে ভাগ বসাবে আর্জেন্টিনাও। তবে এসব রেকর্ড নয়, চার বছর পর আরেকটি ফাইনালের আগে লিওনেল স্কালোনির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা আর্জেন্টিনার পাগলাটে ভক্ত-সমর্থকেরা। আর্জেন্টাইন কোচ বলেছেন, এই সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আরেকবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হতে চান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির কাছে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন রেখেছিলেন, চার বছর আগে জিতে ফেলা শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে দলকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করছেন তিনি। জবাবে স্কালোনি বলেছেন, অনুপ্রেরণা যোগানোর কাজটা করে চলেছেন সমর্থকেরাই, ‘আমরা জিতলে দেশের মানুষ যেভাবে উদযাপন করে, যেভাবে খুশি হয়, সেটা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যাবে না, তা অসম্ভব। দিনশেষে আমরা ওই মানুষগুলোর জন্যই খেলি। দল খেলে দেশের জন্য, নিজেদের পরিবারের জন্য। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিভারপ্লেট ও বোকা জুনিয়র্সের সমর্থকেরা টেলিভিশনের সামনে বসে একে অপরকে জড়িয়ে ধরছে, উদযাপন করছে- এটা কীভাবে আমাদের প্রভাবিত না করে থাকে বলুন?’
কোচের সাথে সুর মিলিয়েছেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজও। সমর্থকেরাই তাদের খেলে যাওয়ার পেছনে মূল অনুপ্রেরণা বলে মানছেন গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অন্যতম এই জয়ের নায়ক, ‘আমাদের সমর্থকেরা অন্য দেশের সমর্থকদের চেয়ে একদম আলাদা। ওরা রীতিমতো পাগলাটে হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার এই ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় রাত দুইটায় ওরা আমাদের জন্য আনন্দ করছে, এটা দেখে আমাদের হৃদয় ভরে যায়। ওদের জন্য আরও একবার বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আসতে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব’।
এমনকি মার্টিনেজ বলেছেন, গতবারের ট্রফিজয়ী আসরের চেয়ে এবারের বিশ্বকাপ তিনি বেশি উপভোগ করছেন।
তবে ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষ স্পেনের চেয়ে একদিন কম বিশ্রামের সুযোগ পেয়েছে আর্জেন্টিনা। স্কালোনি অবশ্য এসব নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন নন, ‘আমরা অনুশীলনের জন্য খুব বেশি সময় পাইনি। গতকাল রাত ১১টায় এখানে এসে পৌঁছেছি, আগামীকালও আমরা ব্যস্ত থাকব। খেলোয়াড়দের সাথে আমার কথা বলতে হবে, দেখতে হবে ওরা কেমন আছে। তবে সব মিলিয়ে দলের সবাই ভালো অবস্থাতেই আছে’।
