অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক জয়, এরপর দ্বিতীয় টেস্টে বড় হার। দুই ম্যাচের ফলাফলটা সম্পূর্ণ ভিন্ন হলেও লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে টাইগারদের। এবার সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই আরও কঠিন এক পরীক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাঁড়াতে হবে তাদের।
দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, নিজেদের কন্ডিশনে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করলেও বাংলাদেশ সিরিজে ভালো লড়াই করতে পারবে। বিশেষ করে ব্যাটাররা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ। ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় টেস্ট ২৩ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নতির কথাও মাথায় রেখেছেন ডি ভিলিয়ার্স। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইনে নয় উইকেটের ঐতিহাসিক জয়কে তিনি বাংলাদেশের সামর্থ্যের প্রমাণ হিসেবেই দেখছেন। যদিও ম্যাকেতে পরের টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরে সিরিজ ১-১ করেছে বাংলাদেশ।
এক পডকাস্টে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘আমার মনে হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভালো লড়াই করবে। বিশেষ করে ব্যাটারদের জন্য এটি বিশ্বের অন্যতম কঠিন জায়গা। এখানে বল শুধু বাতাসে সুইংই করে না, পিচে পড়ার পরও সিম করে। খুব বেশি খেলোয়াড় এই ধরনের কন্ডিশনে অভ্যস্ত নয়, তাই মানিয়ে নেওয়া সত্যিই কঠিন।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশনে ব্যাটিংয়ের নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সাবেক প্রোটিয়া অধিনায়ক জানান, শুধু উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করলেই হবে না। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক ও সক্রিয় থাকতে হবে।
‘আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এটি সামলানোর জন্য আমার কয়েকটি কৌশল ছিল। কখনো ক্রিজ ছেড়ে সামনে এগিয়ে যেতাম, কখনো পুরোপুরি স্টাম্প ঢেকে রাখতাম, আবার কখনো স্টাম্প খোলা রাখতাম। পরিস্থিতি কীভাবে পড়ছি, তার ওপর সবকিছু নির্ভর করত,’ বলেন তিনি।
তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো সিমিং কন্ডিশনে ব্যাটারদের মানসিকতাও বদলাতে হবে।
‘এ ধরনের সিমিং কন্ডিশনে আপনাকে এভাবেই খেলতে হবে। শুধু স্টাম্প ঢেকে রেখে সারা দিন টিকে থাকার চেষ্টা করলে হবে না। আপনাকে সক্রিয় হতে হবে,’ যোগ করেন ডি ভিলিয়ার্স।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত, এই দুই দলের বিপক্ষে এখনো টেস্ট জয়ের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। তবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয় পাওয়ার পর এবার প্রোটিয়াদের দেশেও সেই অপেক্ষা ঘোচানোর সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।
