হবিগঞ্জ সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, দায় অস্বীকার বিএসএফের

হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার সীমান্ত এলাকায় গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চিমটিবিল সীমান্তে ভারতের এক কিলোমিটার অভ্যন্তরে এ ঘটনা ঘটে বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে।

নিহত সোহাগ মিয়া চুনারুঘাট উপজেলার চিমটিবিল এলাকার সফিকুল ইসলামের ছেলে ছিলেন।

হবিগঞ্জ বিজিবি ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রথমে আমরা সন্দেহ করেছিলাম যে বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন। পরে আমরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা নিশ্চিত করেছে যে তাদের গুলিতে ওই যুবক মারা যাননি।’

তিনি বলেন, ‘বিজিবি মনে করছে ভারতীয় চোরাকারবারিদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরে সোহাগকে গুলি করা হয়েছে।’

‘ঘটনার সময় সোহাগের সঙ্গে তার এক ভাইও ছিলেন। তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে পুলিশ ও বিজিবিকে বিস্তারিত জানান। বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে,’ বলেন লে. কর্নেল তানজিলুর।

বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়রা দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গুলির শব্দ পান। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা সোহাগকে শনাক্ত করে তার পরিবার।  

চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সিরাজুম মুনিরা ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পরিবারের সদস্যরা সোহাগকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।’

নিহতের চাচা আবদুল কাদিরের দাবি করেছিলেন, সোহাগ সীমান্তে গরুকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে গরু চোরাকারবারি সন্দেহে গুলি করে বিএসএফ।

ঘটনার পরপরই বিজিবি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের মরদেহ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।’

Related Articles

Latest Posts