স্পিনাররা আক্রমণে আসতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্কোরে অলআউট হওয়ার বিব্রতকর রেকর্ড গড়ল তারা। একদম ছোট লক্ষ্য তাড়ায় অনায়াস জয় তুলে নিল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।
দুইবাইয়ে শনিবার অনুষ্ঠিত নারী এশিয়া কাপের ম্যাচটি ছিল পাকিস্তানের জন্য মাইলফলক। কিন্তু টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নিজেদের ২০০তম ম্যাচটি রাঙানোর বদলে উল্টো মুখ থুবড়ে পড়ে তারা। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.১ ওভারে গুটিয়ে যায় স্রেফ ৫৫ রানে। জবাব দিতে নামা ভারত জিতেছে ৭ উইকেটের ব্যবধানে। ৬৮ বল হাতে রেখে লক্ষ্য পেরিয়ে যায় তারা।
নারী টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের আগের সর্বনিম্ন স্কোর ছিল এই দুবাইয়ের মাঠেই। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লক্ষ্য তাড়ায় ৫৬ রানে অলআউট হয়েছিল তারা।
শুরুটা যদিও বেশ ভালো ছিল পাকিস্তানের। এক পর্যায়ে পঞ্চম ওভারে বিনা উইকেটে তাদের সংগ্রহ ছিল ২৭ রান। তবে ওপেনার মুনিবা আলীকে শেফালি বর্মা বোল্ড করে দেওয়ার পর মড়ক লাগে ব্যাটিংয়ে। টপাটপ উইকেট খুইয়ে আর তাল খুঁজে পায়নি পাকিস্তান।
দুই ওপেনার ছাড়া আর কেউই যেতে পারেননি দুই অঙ্কের ঘরে। মুনিবা ১৫ বলে ১৩ ও শাওয়াল জুলফিকার ১৪ বলে ১৪ রান করেন। শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক ফাতিমা সানাসহ তিনজন। ওপেনিং জুটি ভাঙার পর ৮ রানে ৬ উইকেট হারানো পাকিস্তান বাকি ৪ উইকেট হারায় শেষ ১০ রান যোগ করতে।
একটি রানআউট বাদে বাকি ৯ উইকেটই যায় ভারতের স্পিনারদের ঝুলিতে। বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চরণী ৭ রানে ও লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত ৯ রানে তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। দুই অফ স্পিনার দীপ্তি শর্মা ও শেফালি যথাক্রমে দুটি ও একটি উইকেট নেন।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলেই ছক্কা মারেন শেফালি। পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে তিনি নাম লেখান রেকর্ড বইতে। নারী টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে কম বয়সে (২২ বছর ২২০ দিন) ৩০০০ রান পূর্ণ করেন তিনি।
এরপর ম্যাচে কিছুটা রোমাঞ্চ নিয়ে আসেন সানা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে শেফালি ও প্রতিকা রাওয়ালকে বিদায় করে দেন তিনি। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে ফিরে ছাঁটেন স্মৃতি মান্ধানাকে।
২৯ রানে ৩ উইকেট হারালেও ভারত বিপাকে পড়েনি চাহিদা অল্প হওয়ায়। অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর ১৮ বলে ১৮ ও দীপ্তি ১৪ বলে ১২ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। এই সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি ভারতের টানা পঞ্চম জয়।
‘এ’ গ্রুপ থেকে আগেই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা ভারত তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় পেল। দুই ম্যাচ খেলা পাকিস্তানের নামের পাশে রয়েছে একটি করে জয় ও হার। সেমিতে ওঠার অভিযানে আগামী সোমবার তারা হংকংকে মোকাবিলা করবে।
