শমিতের জোড়া অ্যাসিস্টে জয়ে ফিরল কসমস

দুটি ড্রয়ের পর একটি হার। সময়টা ভালো কাটছিল না নিউইয়র্ক কসমসের। দলকে জয়ের পথ দেখাতে জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের মিডফিল্ডার শমিত সোম। ফোর্ট ওয়েইন এফসির বিপক্ষে নিজেকে মেলে ধরে করলেন জোড়া অ্যাসিস্ট।

শনিবার সকালে ইউএসএল লিগ ওয়ানের ম্যাচে দারুণ এক বক্স-টু-বক্স পারফরম্যান্স উপহার দেন শমিত। মাঝমাঠে তার নৈপুণ্যের সুবাদে প্রতিপক্ষের ডেরায় গিয়ে ৪-২ গোলে জিতেছে কসমস।

শুরুর একাদশে জায়গা পেয়ে পুরো ৯০ মিনিট মাঠে ছিলেন কানাডায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা শমিত। কসমসের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা থেকে শুরু করে আক্রমণ গড়ে তোলা— সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি। এমনকি ফোর্ট ওয়েইন যখন ম্যাচে ফেরার হুমকি দিচ্ছিল, তখন তাদের প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিতেও দারুণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

শুরুতে বল দখলে আধিপত্য দেখালেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কসমস। অবশেষে ম্যাচের ৪৪তম মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙতে ভূমিকা রাখেন ২৯ বছর বয়সী শমিত। তার বাড়ানো বল জালে জড়িয়ে সফরকারীদের লিড এনে দেন লামিন জাওনেহ। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে কসমস। আজমির স্পেংলারের পাস থেকে গোল করেন সার্জিও শ্যাভেজ।

বিরতির পর মাঠে নেমে দ্বিতীয় মিনিটেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় কসমস। স্পেংলারের আরেক অ্যাসিস্টে জাল কাঁপান সেবাস্তিয়ান গুয়েনজাত্তি। তারপর ম্যাচের ৬৬তম মিনিটে রায়ান বেকারের গোলে ব্যবধান কমিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ফোর্ট ওয়েইন। কিন্তু শমিতের ভাবনা ছিল অন্যরকম।

ঠিক পাঁচ মিনিট পর দলের চতুর্থ গোলটি তৈরি করে দেন তিনি। তার পাস থেকে জাওনেহ ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে ফের তিন গোলের লিড পায় কসমস। এটাই ছিল লড়াইয়ের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার মুহূর্ত, যা মাঠে শমিতের প্রভাবের নিখুঁত উদাহরণ হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ক্লারেন্স আউডোরের গোল তাই কেবল স্বাগতিকদের হারের ব্যবধানই কমাতে পারে।

ম্যাচে শমিতের ৩৮টি পাসের মধ্যে ৩১টিই ছিল নির্ভুল, যার মধ্যে সাতটি ছিল প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে। তার দেওয়া পাঁচটি লং বলের মধ্যে চারটিই ছিল নিখুঁত। পুরো ম্যাচে মাত্র ৪৭ বার বল ছুঁলেও দুটি সুযোগ তৈরি করেন তিনি, যার একটি ছিল গোলের জন্য বড় সুযোগ।

শুধু বল পায়ে নয়, বল ছাড়াও সমান কার্যকর ছিলেন শমিত। তিনটি ট্যাকল জেতার মাধ্যমে কসমসকে মাঝমাঠের লড়াইয়ে চালকের আসনে রাখতে বড় অবদান রাখেন তিনি।

গত অগাস্টে ইউএসএল লিগ ওয়ানের (যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদার ফুটবলের তৃতীয় স্তর) দল কসমসে যোগ দেন শমিত। এর আগে তিন বছর কাটান ক্যাভালরি এফসিতে। গত জানুয়ারিতে কানাডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছিলেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts