টাকার বান্ডিল দেখে হত্যার পরিকল্পনা করে বাসচালক-সুপারভাইজার

ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইল হোসেনের লুঙ্গির ভাঁজে টাকার বান্ডিল দেখতে পেয়ে বিষয়টি বাসচালককে জানান সুপারভাইজার। পরিকল্পনামতো গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর টাকা ছিনিয়ে নেন তারা।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আজ রোববার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন—রাজ ক্লাসিক বাসের চালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) ও হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

ফারুক হোসেন জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে জামালপুরের দিকপাইত বাসস্ট্যান্ড থেকে ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসে ওঠেন ইসমাইল। যাত্রাপথে বিভিন্ন স্টপেজে যাত্রীরা ওঠানামা করছিলেন। একপর্যায়ে তার কাছে ভাড়া চান সুপারভাইজার সাজু। ইসমাইল তার লুঙ্গির ভাঁজ থেকে টাকা বের করে ভাড়া পরিশোধ করেন।

তিনি বলেন, তখন সুপারভাইজারের সন্দেহ হয়, ইসমাইলের কাছে আরও অনেক টাকা আছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, সাজু বিষয়টি চালক সোহেল রানাকে জানান। সোহেলও বিশ্বাস করেন যে ইসমাইলের কাছে অনেক নগদ টাকা রয়েছে। তারা দুজন মিলে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন এবং পরে হেলপার মনিরকেও এই পরিকল্পনায় যুক্ত করেন।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দিলেও অভিযুক্তরা ইসমাইলকে চান্দুরা বাসস্ট্যান্ডে নামতে দেননি তারা ইসমাইলকে বাসের ভেতর আটকে রাখেন এবং পরে গন্তব্যে নামিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাকে ঘুমানোর পরামর্শ দেন। অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর সাজু ও মনির মিলে ইসমাইলের হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং তার নাক ও মুখও টেপ দিয়ে আটকে দেন।

ফারুক হোসেন বলেন, এরপর তারা তার গলায় একটি তোয়ালে পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেন।

পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, হত্যার পর অভিযুক্তরা মরদেহ বাসে করেই ঢাকায় নিয়ে আসেন। বাসটি বিমানবন্দর এলাকা দিয়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রবেশ করে এবং বনানীতে গিয়ে নামে। এরপর এটি কাকলী মোড় হয়ে পুনরায় এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠে।

অভিযুক্তরা এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী-কুড়িলমুখী অংশের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি জায়গায় ইসমাইলের মরদেহ ফেলে দেন। এরপর তারা কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে মহাখালী বাস টার্মিনালে চলে যান বলে জানান তিনি।

সেদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে পুলিশ ইসমাইলের লাশ উদ্ধার করে। তার মুখ ও হাত স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা ছিল এবং গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশটি প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্ত করে।

৫০ বছর বয়সী ইসমাইল জামালপুরে জমি বিক্রির পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুরে নিজের বাসায় যাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

যুগ্ম কমিশনার ফারুক বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন, ইসমাইলকে হত্যার পর তার কাছ থেকে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নিয়েছেন তারা। তবে এই টাকা এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাকি আড়াই লাখ টাকার তথ্য জানা যায়নি।

তিনি জানান, পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসটি জব্দ করেছে। এ ছাড়া দুটি তোয়ালে, বাসের দুটি রক্তমাখা সিট কভার এবং একটি ফিচার ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুটি ডাকাতি মামলা রয়েছে। চালক সোহেলের বিরুদ্ধে দুটি ডাকাতি ও দুটি মাদক মামলাসহ দুটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

এ ঘটনায় বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts