পাকিস্তান ক্রিকেটে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার পেছনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদল, নেতৃত্বে পরিবর্তন আর সামগ্রিক অস্থিরতাকে দায়ী করা হচ্ছে অনেক দিন ধরেই। তবে দলের খেলোয়াড়দেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাঁচ-ছয় বছর কাটিয়ে দেওয়ার পরও যখন ধারাবাহিকতা দেখা যায় না, তখন প্রশ্ন উঠবেই। ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে এবার সেই প্রশ্নই আরও কড়া ভাষায় তুলেছেন তিনি।
হেডিংলি ও লর্ডসে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে ইংল্যান্ডের কাছে ব্যাটে-বলে যেভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে পাকিস্তান, তাতে ডি ভিলিয়ার্সের চোখে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ধরা দিয়েছে দলের সাহস ও লড়াইয়ের মানসিকতার ঘাটতি। বিশেষ করে পাকিস্তানের ব্যাটিং ইউনিটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন তিনি।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ডি ভিলিয়ার্স বলেন, ‘এখন পাকিস্তানের অনেক খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগতভাবে দেখলে মনে হয় না, তারা নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার জন্য সেই বাড়তি পরিশ্রমটা করতে প্রস্তুত। বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটে। পর্যাপ্ত কী যেন বলব, সাহস নেই। লড়াই নেই। সব সময় সুন্দর ক্রিকেট খেলতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। অনেক সময় কঠিন, বাজে উইকেটেও খেলতে হয়। শেষ পর্যন্ত এটা নির্ভর করে আপনার সিদ্ধান্তের ওপর।’
নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে খেলাটা কুৎসিত হয়ে যায়, দেখতে ভীষণ কঠিনও লাগে। আমি যদি নিজের অহংকারের জন্য খেলতাম, তাহলে হয়তো আমি অন্য রকম একজন খেলোয়াড় হতাম। আমার কাছে সব সময় গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আজ এখানে আমি কতটা চরিত্র দেখাতে পারছি। প্রতিপক্ষকে সব সময়ই মনে হতো, তারা আমার চরিত্রের পরীক্ষা নিতে এসেছে। পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করার এটাই ছিল আমার বেছে নেওয়া পথ।’
পাকিস্তানের বর্তমান দলকে আরও সরাসরি আক্রমণ করেছেন ডি ভিলিয়ার্স। তার মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো মানসিক দৃঢ়তা এখন দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।
‘আমি সব সময় মনে করতাম, টেস্ট ক্রিকেট আসলে আপনার চরিত্রের পরীক্ষা। এই মুহূর্তে হয়তো পাকিস্তানের ঠিক সেটাই নেই। কিছুটা চরিত্রের অভাব, কিছুটা লড়াইয়ের অভাব। চার-পাঁচজন খেলোয়াড়ের একটি নেতৃত্বগোষ্ঠী দরকার, যারা নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে বলবে, “চলো, এবার আমরাই নেতৃত্ব দিই, আমরাই ছেলেদের দেখাই,”’ বলেন ডি ভিলিয়ার্স।
তিনি আরও বলেন, ‘উদাহরণ তৈরি করতে হবে। তরুণদের দেখাতে হবে, টেস্ট, ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি জিততে আসলে কী করতে হয়। সম্ভবত এই জায়গাটাতেই তাদের ঘাটতি রয়েছে।’
তবে পাকিস্তানের এমন দুরবস্থার জন্য শুধু খেলোয়াড়দেরই দায়ী করেননি ডি ভিলিয়ার্স। পিসিবির অস্থির ব্যবস্থাপনাকেও বড় কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি, ‘ওপরের দিক থেকেও কিছুটা অব্যবস্থাপনা আছে। প্রচুর কাটাছেঁড়া, বারবার পরিবর্তন। নেতৃত্বেও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন বাবর আবার ফিরেছে। আশা করি, এবার সে দীর্ঘ সময় সুযোগ পাবে, ফিট থাকবে এবং আমরা যে বাবরকে চিনি, সেভাবেই আবার রান করা শুরু করবে। আর তার সতীর্থরাও যেন তার পথ অনুসরণ করতে শুরু করে।’
ইংল্যান্ড সফরেই পাকিস্তানের সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। হেডিংলিতে প্রথম টেস্ট মাত্র তিন দিনে শেষ হয়। লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট চতুর্থ দিনে গড়ায় মূলত বৃষ্টির কারণে। চার ইনিংসের কোনোটিতেই পাকিস্তান ২০০ রান পার করতে পারেনি।
প্রথম দুই টেস্টে এমন ব্যর্থতার পর পিসিবি একসঙ্গে সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে তৃতীয় ও শেষ টেস্টের জন্য দলে বেশ কয়েকজন তরুণকে যুক্ত করেছে। শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তনেই থামেনি বোর্ড। টেস্ট দলের কোচ সরফরাজ আহমেদের জায়গায় সাদা বলের দলের কোচ মাইক হেসনকেও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সবশেষে দলটির উপর আসাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে আমার সংক্ষিপ্ত কথা এটাই। আশা করি, তারা আবার সেই ফর্মে ফিরবে এবং সব সংস্করণেই আমরা যে দলটিকে চিনি, সেই দল হয়ে উঠবে।’
