মহেশখালীর এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির পর আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের একটি ইউনিট নষ্ট হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘এসব ঘটনায় সব মানুষের মনে এই প্রশ্নটি দেখা দিয়েছে যে, এর পেছনে কোনো রহস্য আছে কি না? কোথাও কোনো স্যাবোটাজ হচ্ছে কি না? কেন এখন একটার পর একটা কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে?’
আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘সরকার তো চেষ্টা করেছে, যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সরকারের কাছ থেকে টাকা পায়, কিস্তি অনুযায়ী সেই টাকা শোধ করে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও যে চুক্তিটি আছে, ধরুন, ভারতের সঙ্গে যে চুক্তি আছে, তাদের যে পাওনা সেটাও সরকার দিচ্ছে। তাহলে এটা হচ্ছে কেন?’
‘আমি বলব যে সংকট, সে সংকটটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে এবং কোথাও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে আমার কাছে কেন জানি মনে হচ্ছে। অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, আপনি কীভাবে বলছেন? কিন্তু বাস্তবতা ও বিরাজমান ঘটনাগুলো দেখে আমার কাছে মনে হচ্ছে যে, কোথাও কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না? কোথাও কোনো চক্রান্ত হচ্ছে কি না?’
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘এই রকম যে বিষয়গুলো, আমরা এর আগেও দেখেছি ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে, হঠাৎ করে কিছু কিছু ঘটনা ঘটতো।’
সরকারের জনকল্যাণমুখী কর্মসূচিগুলোকে বাধা দেওয়ার জন্যই নানা ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা দেখছেন নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে উঁকি মারার চেষ্টা করছে। কিন্তু করছে কীভাবে? এখানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কী করছে? তারা এতগুলো মানুষ জড়ো করল, তো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানে না? পুলিশ প্রশাসন কী করছে? এটার উদ্দেশ্য কী?’
‘আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল, কিন্তু এরা যে কর্মকাণ্ডটি করল, যে রক্ত পিপাসু আচরণ করল; প্রাইমারি স্কুল, হাই স্কুল, কলেজ ও ইউনিভার্সিটির ছেলেদের রক্ত পান করল, রিকশাওয়ালা, শ্রমিক, সাধারণ মানুষকে দিনে দুপুরে হত্যা করল, তাদের বিচার হবে না?’
‘তারা যদি স্বমূর্তিতে-স্বমহিমায় জিঘাংসু চেহারা নিয়ে প্রত্যাবর্তন করতে চায়, তারা যদি ফিরে আসতে চায়, তাহলে এ দেশের কী পরিণত হবে,’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘এ দেশে যারা গণতন্ত্রকামী মানুষ, এখানে আমরা যারা বসে আছি, একটাও রক্ষা পাবে না।’
‘১৯৭৩ সালের কথা বলি, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভাগ্নে এবং তাকে বলা হতো দ্বিতীয় ক্ষমতাশালী ব্যক্তি; শেখ মুজিবের পরে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী…তিনি বলেছেন যে, আমি ভায়োলেন্সে বিশ্বাস করি। অর্থাৎ এই রাজনৈতিক দলটির ডিএনএর মধ্যে, রক্তের মধ্যেই ভায়োলেন্স যুক্ত রয়েছে,’ বলেন তিনি।
চব্বিশের আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, শুধুমাত্র নিজে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য দেশের এই বাচ্চা-বাচ্চা ছেলেমেয়ে হত্যা করতে, এই নির্মমতা-পৈশাচিকতা করতে দ্বিধা করেনি, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শেষদিন পর্যন্ত বলছে যে তোমরা যেভাবে পার দেখামাত্র গুলি করো—স্বয়ং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এই কথা বলেছেন।
‘একজন রাষ্ট্রনায়কের তো প্রসারিত হৃদয় থাকবে। সে যখন দেশের রাষ্ট্রনায়ক, তখন সবার আগে দেশের জনগণের নিরাপত্তা দেবে,’ যোগ করেন রিজভী।
সমমনা রাজনীতিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি যেন হয়।’
জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিরোধীদল কথা বলবে পার্লামেন্টে, কথা বলবে বাইরেও। কথা বলবে, কর্মসূচিও নিতে পারবে, কিন্তু অলীক কোনো বিষয়, অহেতুক কোনো বিষয়, যেটার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা নিয়ে অতিরিক্ত হইচই করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না।
তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্যাস সংকট আছে, জ্বালানি সংকট আছে, বিদ্যুৎ সংকট আছে। কিন্তু এই সংকটের জন্য দায়ী কে? মাত্র তো ছয় মাসের সরকার। দায়ী হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ।’
