১৮১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুলের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত ১৮০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার তিন সহযোগীর বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে চার্জশিটটি অনুমোদন করা হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।

মূল মামলায় আনিসুল হক একমাত্র আসামি হলেও চার্জশিটে আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন আনিসুল হকের আত্মীয় ও বিএইচআইএস অ্যাপারেলসের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলাম এবং শ্যালিকা জেবুন্নেসা বেগম হক।

প্রায় ১৫০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৭০০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে আনিসুল হকের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি মামলাটি করে দুদক।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের মধ্যে আনিসুল হক নিজের নামে ৯৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৯১ কোটি ৯২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।

কমিশন জানায়, তদন্তে তার আত্মীয়দের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগেরও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, জেবুন্নেসা বেগম হকের ২৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিটিজেনস ব্যাংকে ১০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ১৩ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে।

আনিসুলের ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের ২০ কোটি ৭১ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে তদন্তে পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মোহাম্মদ ইকবালের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪০ কোটি ১ লাখ টাকা। দুদক জানায়, ইকবালের ৪০ কোটির বেশি টাকার সম্পদ সিটিজেনস ব্যাংকের শেয়ারে রয়েছে বলে জানা গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আনিসুল হকের জ্ঞাত ও গ্রহণযোগ্য আয় ছিল ১৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে পারিবারিক ব্যয় ৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বাদ দিলে তার নিট সঞ্চয় হওয়ার কথা ৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা।

তদন্তে আত্মীয়দের নামে থাকা সম্পদসহ আনিসুলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৮০ কোটি ৮৬ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৭২ কোটি ২৪ লাখ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের উৎসের বাইরে বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

দুদকের তদন্তে আনিসুল ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ২৩টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেনেরও তথ্য পাওয়া গেছে। এসব হিসাবে মোট ৩৭৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা জমা এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ফলে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা; দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা; দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিটটি অনুমোদন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকার সদরঘাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় আনিসুল হককে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

Related Articles

Latest Posts