যে বয়সে স্বপ্নটা কেবল শুরু হয়েছে, সেই ১৩ বা ১৪ বছরের কিশোর এমবাপেকে একদিন রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন জিনেদিন জিদান। তখন জিদান ছিলেন রিয়ালের কোচ, আর এমবাপে ছিলেন ভবিষ্যতের তারকা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর এক কিশোর। সময়ের স্রোতে সেই কিশোরই আজ ফ্রান্সের অধিনায়ক। আর তার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সেই জিদান। পুরো ব্যাপারটাকে তাই বাস্তবের চেয়ে সিনেমার গল্পই মনে হচ্ছে কিলিয়ান এমবাপের কাছে।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতেই প্রথমবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জিদানের অধীনে কাজ করবেন এমবাপে। পাঁচ বছর রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব থেকে দূরে থাকার পর আবার কোচিংয়ে ফিরেছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি। আর প্রত্যাবর্তনের পরই দায়িত্ব পেয়েছেন এমন একটি দলের, যার বর্তমান অধিনায়ক এমবাপে, যার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িয়ে আছে জিদানের নাম।
গত সপ্তাহে জিদানকে ‘ফ্রান্স দলকে সবচেয়ে বেশি ধারণ করা খেলোয়াড়’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন এমবাপে। ফরাসি ফুটবলে জিদানের অবদানের কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। এবার স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই পুরোনো সম্পর্কের কথাই স্মরণ করেছেন ফরাসি অধিনায়ক।
‘হ্যাঁ, কয়েক বছর আগে তিনিই আমাকে রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি আমাকে নিয়ে রিয়ালে গিয়েছিলেন, অনুশীলন কেন্দ্রে নিয়ে গিয়েছিলেন। তখন আমার বয়স ১৩ বা ১৪। অনেক বছর আগের কথা,’ বলেছেন এমবাপে।
সেই কিশোর বয়সে যিনি এমবাপেকে রিয়ালের দরজায় পৌঁছে দিয়েছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তিনিই এখন তার জাতীয় দলের কোচ। তাই বিষয়টিকে সাধারণ কোচ-খেলোয়াড়ের সম্পর্ক হিসেবে দেখছেন না এমবাপে, ‘এখন তিনি আমার জাতীয় দলের কোচ। এটা যেন সিনেমার কোনো গল্পের মতো। তবে তিনি অসাধারণ মানের একজন কোচ।’
বিশ্বকাপের পর ফ্রান্সের দায়িত্বেও এসেছে পরিবর্তন। ১৪ বছর জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালনের পর দিদিয়ের দেশমের জায়গায় এসেছেন তারই সাবেক সতীর্থ জিদান। আর তার অধীনে নতুন অধ্যায় শুরু করতে যাওয়া ফ্রান্সের অন্যতম প্রধান মুখ এমবাপে।
‘এটা নতুন কোচের সঙ্গে নতুন একটি অধ্যায়। সবার জন্যই এটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে, কারণ আমরা এতদিন শুধু দেশমকেই কোচ হিসেবে পেয়েছি। আমাদের জন্য এটি পরিবর্তন, তবে আমার মনে হয় সবকিছুই খুব ভালোভাবে এগোবে,’ বলেছেন এমবাপে।
২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার পর ২০২২ সালেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন এমবাপে। বর্তমান প্রজন্মের ফরাসি ফুটবলের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি। অন্যদিকে জিদান ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জয়ের অন্যতম নায়ক। গত সপ্তাহেই জিদান নিশ্চিত করেছেন, ফ্রান্সের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন এমবাপে।
এবার সেই এমবাপের কোচ হয়েই নতুন যাত্রা শুরু করছেন জিদান। শুক্রবার নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের ডাগআউটে অভিষেক হবে তার। এরপর বেলজিয়াম ও ইতালির বিপক্ষেও মাঠে নামবে ফরাসিরা।
