ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৬ মাসে কাতারের রাজস্ব কমেছে ৪২ শতাংশ

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে গ্যাস অবকাঠামো ও রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে কাতার। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কাতারের রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির আমির।

আজ মঙ্গলবার কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক দেশ কাতার। যুক্তরাষ্ট্রের পরেই দেশটির অবস্থান। তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কাতারের এলএনজি রপ্তানির ‘উল্লেখযোগ্য অংশ’ কমে গেছে বলে জানিয়েছেন শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি।

রাজধানী দোহায় শুরা কাউন্সিলের বার্ষিক অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাস লাফান শিল্পনগরীর কয়েকটি জ্বালানি স্থাপনা সরাসরি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশের রপ্তানির উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে।’

‘এই সংকট সরকারি অর্থ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এটাই স্বাভাবিক। এর ফলে বছরের প্রথম ছয় মাসে মোট রাজস্ব ৪২ শতাংশ কমেছে’, যোগ করেন তিনি।

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে রাস লাফান স্থাপনাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল বন্ধ থাকায় কাতারের রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। এলএনজি পরিবহনে এটাই ছিল দেশটির একমাত্র নৌপথ।

তবে বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র নর্থ ফিল্ডের বড় ধরনের সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন আমির। তিনি কাউন্সিলকে বলেন, ‘নর্থ ফিল্ড গ্যাস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে।’

পারস্য উপসাগরের তলদেশ দিয়ে ইরানের ভূখণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত নর্থ ফিল্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে কাতারের বার্ষিক গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে এক্সনমোবিলের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়নাধীন গোল্ডেন পাস এলএনজি প্রকল্পের কাজও ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে বলে জানান আমির।

চলমান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি কাতার। আজ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তাদের সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর কাতারের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ দশমিক ৬ শতাংশ কমতে পারে।

Related Articles

Latest Posts