শ্রীলঙ্কার নেগোমবো কারাগারে কয়েদিদের সংঘাতে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন কারারক্ষীও আছেন। একই ঘটনায় আহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।
আজ সোমবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও শ্রীলঙ্কার স্থানীয় গণমাধ্যম দ্য মিরর।
দ্য মিররের প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ‘কারাবিদ্রোহ’ আখ্যা দিয়েছেন।
রাজধানী কলম্বোর উত্তরে অবস্থিত নেগোমবো হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারাগারে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত দুই দল কয়েদিদের মধ্যে রাতভর সংঘর্ষ চলে।
রাষ্ট্রায়ত্ত হাসপাতালটির পরিচালক পুষ্প গামলাথ এএফপিকে জানান, সেখানে ১৯ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।
১০০ জনেরও বেশী কারারক্ষী ও কয়েদিকে আহত অবস্থায় ভর্তির বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেন।
এএফপিকে ফোনে গামলাথ বলেন, ‘আহতদের কারো কারো গায়ে বুলেটের আঘাত চিহ্নিত হয়েছে।’
রোববার সন্ধ্যায় নেগোমবো কারাগারে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই কারাগারে প্রায় ১০ হাজার অপরাধীকে বন্দী করে রাখা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কমান্ডোদের ডেকে আনা হয়েছে। তবে তারা এখনো কারাগারের ভেতর প্রবেশ করেননি।
আজ সোমবার কারাগারের বাইরে কয়েদিদের আত্মীয়-স্বজনদের ভিড় জমাতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানায়, তারা রাতভর গুলির শব্দ শুনেছে।
কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ড্রোন মোতায়েন করেছে।
পুলিশের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘কয়েদিদের সংঘাত থামাতে যেয়ে চার কারারক্ষী নিহত হন। আজ সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
২০২০ সালের ডিসেম্বরে অপর এক কারাগারে একই ধরনের ঘটনায় ১১ জন কয়েদি নিহত হয় এবং ১১৭ জন আহত হয়।
শ্রীলঙ্কার বেশিরভাগ কারাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষকে আটক রাখা হয়েছে।
