কানাভারোর কীর্তির পাশে কুবারসি, ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন কি বাস্তব?

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার (গোল্ডেন বল) উঠেছে রদ্রির হাতে। তবে অনেকের মতে, এই সম্মানটি পাওয়ার যোগ্য ছিলেন আরেক স্প্যানিয়ার্ড, মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত রক্ষণভাগের নেতৃত্ব দিয়ে বার্সেলোনার এই তরুণ ডিফেন্ডার শুধু স্পেনকে বিশ্বচ্যাম্পিয়নই করেননি, ব্যালন ডি’অরের আলোচনাতেও নিজের নাম জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

২০২৬ বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি ছিল তাদের দুর্ভেদ্য রক্ষণ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল, যা বিশ্বকাপজয়ী কোনো দলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্স।

এই রক্ষণভাগের নেতৃত্বে ছিলেন মাত্র ১৯ বছর বয়সী পাউ কুবারসি। আয়মেরিক লাপোর্তের সঙ্গে গড়া তার জুটি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ কার্যত নিষ্ক্রিয় করে রেখেছিল। তাদের সঙ্গে নিয়মিত একাদশে ছিলেন পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেয়া। প্রয়োজন অনুযায়ী দলে অবদান রেখেছেন মার্কোস লোরেন্তে, এরিক গার্সিয়া, মার্ক পুবিল ও আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোও।

স্পেনের বিপক্ষে একমাত্র গোলটি এসেছে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারের কাছ থেকে। এরপর আর কোনো দল স্প্যানিশ রক্ষণ ভাঙতে পারেনি।

পরিসংখ্যানও কুবারসির অসাধারণ পারফরম্যান্সের সাক্ষ্য দিচ্ছে। সোফাস্কোর-এর তথ্য অনুযায়ী, পুরো বিশ্বকাপে তিনি ২৯টি বল পুনরুদ্ধার (রিকভারি) করেছেন, ৯৬ শতাংশ পাস সফল করেছেন, ৭টি ক্লিন শিটে ভূমিকা রেখেছেন এবং ১৪টি এয়ার ডুয়েলে জয় পেয়েছেন।

এই পরিসংখ্যান আরও বিশেষ হয়ে ওঠে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালির অধিনায়ক ফাবিও কানাভারোর সঙ্গে তুলনা করলে। সেবার কানাভারোও করেছিলেন ২৯টি বল পুনরুদ্ধার, তবে তার পাস সফলতার হার ছিল ৮৪ শতাংশ এবং ক্লিন শিট ছিল ৫টি। যদিও এয়ার ডুয়েলে তিনি এগিয়ে ছিলেন, জিতেছিলেন ৩১টি ডুয়েল।

বিশ্বকাপ জয়ের পর সেই বছরই ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন কানাভারো। তার আগে সর্বশেষ কোনো ডিফেন্ডার হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছিলেন জার্মান কিংবদন্তি ম্যাথিয়াস সামার।

এবার তাই প্রশ্ন উঠছে, বিশ্বকাপের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা জয়ের সাফল্য মিলিয়ে কুবারসি কি ব্যালন ডি’অরের অন্যতম প্রধান দাবিদার?

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সময়ই দেবে। তবে মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারদের কাতারে নিজের নাম তুলে ফেলেছেন কুবারসি। আর সেই কারণেই অনেকের চোখে, রদ্রি গোল্ডেন বল জিতলেও বিশ্বকাপের অন্যতম বড় আবিষ্কার ছিলেন এই বার্সেলোনা তারকা।

 

Related Articles

Latest Posts