২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেরপুর জেলা কারাগারে হামলার সময় পালিয়ে যাওয়া ৫১৮ কয়েদির মধ্যে এখনো ৩৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত ১৭২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শেরপুর জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার মোহাম্মদ আবদুস সেলিম আজ সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, হামলার সময় লুট হওয়া নয়টি চীনা রাইফেল ও শটগানের সব অস্ত্র উদ্ধার করা গেলেও বিপুল পরিমাণ গুলি এখনো উদ্ধার হয়নি।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লুট হওয়া চীনা রাইফেলের ৮৪৪ রাউন্ড গুলির কোনো হদিস মেলেনি। এছাড়া লুট হওয়া ৩৩১ রাউন্ড শটগানের গুলির মধ্যে মাত্র ৩২ রাউন্ড উদ্ধার হয়েছে। অর্থাৎ মোট ১ হাজার ১৭৫ রাউন্ড গুলির মধ্যে এখনো ১ হাজার ১৪৩ রাউন্ড উদ্ধার হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য অস্ত্রে সজ্জিত একদল হামলাকারী কারাগারের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা কারাগারের বিভিন্ন অংশে আগুন ধরিয়ে দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখান থেকে সরে যান।
জেলার আবদুস সেলিম বলেন, হামলার সময় কারাগারের কম্বল, বালিশ, ফ্যান, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওষুধ, আসবাবপত্র এবং বস্তাভর্তি খাদ্যসামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। তৎকালীন জেল সুপার লিপি রানী সাহার সরকারি বাসভবনেও হামলা চালিয়ে মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়।
তিনি বলেন, ভবনের ক্ষয়ক্ষতি ও বিভিন্ন মালামাল লুটের ঘটনায় প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর কারাগারটি পুনরায় চালু করা হয়।
তিনি আরও বলেন, হামলার সময় কারাগারের সব গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে যায়। তবে এক কর্মচারীর কাছে থাকা একটি ল্যাপটপে সংরক্ষিত কারা গোয়েন্দা তথ্যভাণ্ডার (পিআইডিএফ) অক্ষত থাকায় কারা গোয়েন্দা তথ্যভান্ডার রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘পলাতক বাকি বন্দিদের গ্রেপ্তার এবং লুট হওয়া গুলি উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
