সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাজান প্রদেশে হামলা চালিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি সিভিল ডিফেন্স।
গতকাল শনিবার জাজানের আল-তুয়াল এলাকায় এই হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র বেসামরিক স্থাপনায় এই হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, ইতিমধ্যে জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে।
হুতিরা দাবি করেছে, তাদের এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দক্ষিণ নাজরান প্রদেশের শারুরায় অবস্থিত সৌদি সামরিক ঘাঁটি।
ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা গত কয়েকদিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই ধারাবাহিক হামলা ইয়েমেন পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে, যা আঞ্চলিক সংকটকে আরও গভীর ও আশঙ্কাজনক করে তুলছে।
এর আগে মঙ্গলবার, গোষ্ঠীটি সৌদি আরবের আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৭৩ জন আহত হন।
জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রায় চার বছর ধরে চলা তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর গত জুলাই মাসে ইয়েমেনে আবারও নতুন করে সংঘাত শুরু হয়।
বর্তমানে হুতি যোদ্ধারা ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে এবং কৌশলগত বন্দরনগরী ‘মোখা’ দখল করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীও আল-জাওফ, মারিব ও আল-বাইদা অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু করেছে।
ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
চলতি মাসে এই সংকট নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক করেছে। বৈঠকে জাতিসংঘের বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইয়েমেন বর্তমানে ‘যুদ্ধের একটি নতুন এবং আরও বিপজ্জনক অধ্যায়ের’ দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
