‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ আয়োজনে এফডিসি জুড়ে কালজয়ী সিনেমার পোস্টার

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির আয়োজনে ‘ফিল্ম ডিরেক্টরস ডে’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কালজয়ী ও আলোচিত সিনেমার পোস্টারে ছেয়ে গেছে বিএফডিসি।

পরিচালক সমিতির ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ বুধবার বিএফডিসিতে এই আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।

আয়োজনে এফডিসির প্রবেশ পথেই খ্যাতিমান পরিচালক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার, সুরকারদের ছবি ও সিনেমার পোস্টার সাজানো হয়েছে। কালজয়ী সিনেমার পোস্টারের পাশাপাশি গত ১০ বছরে আলোচিত সিনেমার পোস্টারও সেখানে জায়গা পেয়েছে।

এসব সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘আলোর মিছিল’, ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘এপার ওপার’, ‘আগুনের আলো’, ‘নবাব সিরাজুউদ্দোলাহ’, ‘এখনই সময়’, ‘চাঁদনী’, ‘চেতনা’, ‘প্রিয়তমা’, ‘রাজকুমার’, ‘ছুঁয়ে দিলে মন’ ইত্যাদি।

এ ছাড়া, চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন পরিচালক কাজী হায়াত, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, সোহেল রানা, মতিন রহমান, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, আবু মুসা দেবু, মহিউদ্দিন শাকের, গীতিকার মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, আবুল খায়ের বুলবুল ও আওকাত হোসেন। সম্মাননা গ্রহণ করেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনও।

আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেক পরিচালকের সঙ্গে এই প্রজন্মের অনেকের যোগাযোগ নেই। গুণী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র আমাদের এই শিল্পকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে। এ কারণে পরিচালক সমিতি গুণিজনদের সম্মাননা দিয়েছে।’

সমিতির মহাসচিব শাহীন কবির টুটুল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘যাদের মাধ্যমে আমাদের চলচ্চিত্র সমৃদ্ধ হয়েছে, তাদের অনেকেই হয়তো জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পাননি, আবার অনেকে পেয়েছেন। পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে আমরা গুণীদের সম্মাননা জানিয়েছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে প্রতি বছর ৩ আগস্ট এই দিনটি পালন করার। কারণ এই দিনে “মুখ ও মুখোশ” মুক্তি পেয়েছিল।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, ‘আগের সিনেমাগুলো আমরা শুধু দেখতামই না, সেগুলো আমাদের হৃদয়ে থেকে যেত। কোনো না কোনো ইতিবাচক বার্তা আমাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকত। আমরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করব, আগামীতেও এমন সিনেমা নির্মাণ করতে। আমরা চাই এমন সিনেমা নির্মিত হোক, যেগুলো সমাজকে পরিবর্তন করবে।’

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিনেমার উন্নতির জন্য আমাদের কাছে একটি পরিপূর্ণ রিপোর্ট চেয়েছিলেন। সিনেমা ও এফডিসির উন্নতির জন্য যা যা করা দরকার, আমরা খুব শিগগির সেগুলো বাস্তবায়ন করব। আমি নিজেও একজন ফিল্মমেকার হতে চেয়েছিলাম, এ কারণে এই সেক্টর নিয়ে আমার আগ্রহ একটু বেশি।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা।

আয়োজনের সাংস্কৃতিক পর্বে নৃত্য পরিবেশন করেন চিত্রনায়িকা দিঘী, গান পরিবেশন করেন কোনাল।

Related Articles

Latest Posts