কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহরে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।
আজ শনিবার দুপুরে পৌরসভার কুন্ডুপাড়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস বর্তমানে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি বাংলা টিভির কুমারখালী উপজেলা প্রতিনিধি।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন একই এলাকার বাসিন্দা এবং নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক বাতি স্থাপনকাজের ঠিকাদার।
হামলার ঘটনায় আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিক মামলা করেছেন বলে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন।
এজাহারে বলা হয়, প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় আনোয়ার, রুহুল আমিনসহ ১১ জন এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জন রামদা, কাঠ, বাঁশ, লাঠি দিয়ে সাংবাদিক উল্লাস ও ক্যামেরা পারসন সাকিবের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা সাংবাদিককে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর করে এবং এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে হত্যা করার হুমকি দেয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
চিকিৎসাধীন সাংবাদিক উল্লাস ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘তারা ১০-১৫ জন লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের চাচাতো ভাই ঠিকাদার আনোয়ার নিজেও আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। তিনি বলেন, এই কাজে যে বাধা দিতে আসবে তারই হাত ভেঙে দেওয়া হবে। মারধরের সময় আশপাশে তিনজন পুলিশ সদস্যও ছিল।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমারখালী শহরের গণ মোড় থেকে হিম্মত মোড় পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও সড়ক বাতি স্থাপনের জন্য প্রায় ৯ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ করছেন ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া এবং অনিয়মের কারণে কাজটি বন্ধের নির্দেশ রয়েছে।
আজ সেখানে পরিদর্শনে যান কুমারখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার। সেসময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন সাংবাদিক মাহবুবুল আহসান উল্লাস।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ওই সাংবাদিক কুন্ডুপাড়ায় এলাকায় গেলে স্থানীয় এমপির চাচাতো ভাই ঠিকাদার আনোয়ার ও রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তাকে মারধর করা হয়। সংবাদকর্মী ও পুলিশ সদস্যরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারজানা আখতার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা চিঠি দিয়ে প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে রেখেছিলাম। এরপরও অনুমতি ছাড়া ঠিকাদার আনোয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বাধ্য হয়ে আজকে সেখানে যাই। গিয়ে কাজ বন্ধ করে চলে আসি। এরপর শুনি একজন সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে।’
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সাংবাদিক উল্লাসের বাড়ি আমাদের এলাকায়। কাজের শুরু থেকে তিনি চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।’
এরপর তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলেও জবাব দেননি।
মন্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনকে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মারধরের বিষয়টি আমি শুনেছি। যা হয়েছে, তা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহের সময় বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ও হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং মামলা হয়েছে। দ্রুতই হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে পুলিশকে আমরা আজ রাত সময় দিয়েছি। না হলে কঠোর আন্দোলন হবে।’
