যানজটে আটকে থাকা সড়কে ধীরগতিতে চলছে ফেরারি ও ল্যাম্বরগিনির মতো বিলাসবহুল গাড়ি। নতুন স্টেকহাউসগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজেদের। শহরের আলোচনায় এখন বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।
গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন বিলাসিতার চিত্র দেখা যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া যুদ্ধ থেকে শহরটি অনেক দূরে হলেও ওই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ ফেলেছে।
কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানা এই অস্থিরতা থেকে তেল বিক্রির আয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উৎপাদন শুরু করা গায়ানা এ বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে যাচ্ছে, যা বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বেড়ে গেছে। হরমুজ, বাব আল-মান্দেবসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে। আর এই প্রতিযোগিতায় আয় বাড়ছে গায়ানার।
এর মধ্য দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে দেশটি।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ঘাটতি সামাল দিতে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় তেল উৎপাদন বাড়ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়তে পারে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৩৭ শতাংশ এখন আমেরিকা মহাদেশ থেকে আসে। এক দশক আগে এই হার ছিল ২৭ শতাংশ।
জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, গায়ানা দেশ হিসেবে ছোট হলেও হঠাৎ করেই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি কেবল শুরু।
বর্তমানে দেশটির দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় নয় লাখ ব্যারেল। রামবারানের মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে গায়ানার দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৩ শতাংশ। নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, এই প্রবৃদ্ধি দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত করেছে।
তবে তেলের বাজারে এই জয়জয়কার দেশটিতে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, এই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুবিধা সাধারণ মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি ছোট অভিজাত শ্রেণি বিপুল সম্পদ গড়ছে, আর সাধারণ মানুষকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট ও নিম্নমানের সরকারি সেবার সঙ্গে লড়তে হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার, যা উরুগুয়ে ও চিলির মতো তুলনামূলক সমৃদ্ধ দেশসহ দক্ষিণ আমেরিকার অন্য সব দেশের চেয়ে বেশি।
তবে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর রাস্তায় দাঁড়ালে দেশটি হঠাৎ করে উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে, এমন হয় না।
জর্জটাউনের খালগুলোতে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। বন্যা বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা জরাজীর্ণ বাড়িতে পরিবারগুলো গাদাগাদি করে বসবাস করে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়।
দ্রুত বদলে যাওয়া জর্জটাউনের চেহারাও নতুন করে বিরোধের কারণ হয়ে উঠেছে। নগরীর ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, এখন যা কিছু তৈরি করা হচ্ছে, সব কিছুই কুৎসিত।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে তৈরি হওয়া সংকট গায়ানার একটি বৈপরীত্যও সামনে এনেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদন করলেও তা থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি তৈরির অবকাঠামো নেই। ফলে আমদানির ওপর নির্ভরশীল গায়ানায় বিদ্যুতের দাম বেশি। এই বসন্তেও দেশটি সাময়িকভাবে জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।
তেল থেকে পাওয়া অর্থের সুফল অসমভাবে বণ্টিত হওয়া নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আবার গায়ানা অন্যান্য দেশের মতো দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি ও তেলবহির্ভূত অর্থনীতির অভাবে পড়বে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মীদের কাজে লাগাতে বাধ্য করতে হবে। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিল এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।
গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’
অবকাঠামো বিনিয়োগ ও শক্তিশালী কৃষি খাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’
তবে গায়ানা সরকার নিউইয়র্ক টাইমসের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে বলে প্রকাশ্য মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী। মূল্যস্ফীতি থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গায়ানার এই অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রেরও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার গুরুত্বও বাড়ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল রাজস্বে মানুষের জীবনযাত্রার মান মৌলিকভাবে উন্নত হচ্ছে বলে দাবি করছেন গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো নতুন অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলো উল্লেখ করছেন।
গায়ানার জনসংখ্যা কম এবং তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমানের হিসাবে কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।
তবে জুলাইয়ে সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া অনেকে প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ ছিলেন, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা অর্থের মধ্যেও জীবন চালিয়ে যেতে সংগ্রাম করছিলেন।
এই ঘটনায় জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’
গায়ানার রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও চাপের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।
আলী বারবার কোনো ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনদের বা তাদের ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও পড়ছে গায়ানায়। এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেল পাওয়ার পর দুই দেশের বিরোধ আরও তীব্র হয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর দাবি জোরদার করছেন।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে গায়ানার দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও বাড়ছে। ভেনেজুয়েলা আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজ তারা আটক করেছিল। সেইসঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল।
এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা বলে উল্লেখ করেছিল। এটি গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে আসে।
ভেনেজুয়েলার সরকার ওই হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকে ভেবেছিলেন, দুই দেশের বিরোধ কমে আসবে।
কিন্তু ঘটেছে উল্টোটা।
ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানাকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল। দেশটির জাহাজে হামলা চালানোর পর গায়ানাকে সমর্থন করেছিল তারা।
এদিকে সীমান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে। এর আগে গায়ানার কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক রাখছে এবং এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?
অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গায়ানার আরেকটি চ্যালেঞ্জ হলো জনসংখ্যার পরিবর্তন। কাজের সন্ধানে কিউবা এবং ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন। শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই প্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।
তাদের আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার বদলে যাওয়া পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ। এক দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, অন্যটি বছরের পর বছর স্থবিরতা ও পতন থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’
ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতো মনে হয়। ‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।
