আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঢাকার দুটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করা হবে। পুরো ব্যবস্থাটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে ছয় মাসের মধ্যে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়।
বাস রুট রেশনালাইজেশনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বাস মালিক সমিতিকে।
নতুন এই ব্যবস্থায় প্রত্যেক রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলবে। গাড়ির ফিটনেস, শৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি তারাই নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকিটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করার প্রস্তাব দিয়েছে ডিটিসিএ।
ডিটিসিএ জানায়, এক রুটে একাধিক কোম্পানি ও ব্যক্তি মালিকানার বাস চলায় যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। ফিটনেসবিহীন ও পুরোনো বাসগুলো যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে। প্রতিটি রুটে একটি কোম্পানি থাকলে এ ধরনের প্রতিযোগিতা কমবে এবং শৃঙ্খলা ফিরবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, গত ২৮ সেপ্টেম্বর তিনি বাস কোম্পানিগুলোর মালিক ও সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনা এবং ফিটনেস ও আইন মানার বিষয়ে অপারেটরদের দায়িত্বের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবিত ৩২টি রুটে বাস চলাচল শুরু করা সম্ভব। আর ছয় মাসের মধ্যে নিয়ন্ত্রিত ফ্র্যাঞ্চাইজি সেবা চালু হতে পারে। তবে সভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ করতে হবে।
যাত্রীসেবার মান বাড়াতে বাস মালিকদের দুই মাসের মধ্যে সব বাসের মেরামত, বডিবিল্ডিং ও রং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় চালানোর জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ইলেকট্রিক বাস কিনছে। প্রাথমিকভাবে এগুলো চালাতে আটটি রুটের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে সমন্বয় করে ডিটিসিএ রুট নির্ধারণ করবে।
