সিজারের পর পেটে গজ রাখার অভিযোগ, ৫ মাস পর মৃত্যু

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এক নারীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত বিথী আক্তার (২৫) গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়ার রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন।

রাকিবুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে বিথী একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।

তার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকরা বিথীর পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেন। এরপর থেকেই বিথী নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দুই মাস পর আবার তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে নাড়িতে জটিলতা দেখা দিলে আইসিইউতে চিকিৎসা দেওয়া হয় বিথীকে।

তিনি আরও বলেন, বাইপাস সার্জারিসহ একাধিক জটিল চিকিৎসা করানো হলেও বিথীর অবস্থার উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তার ওজন ৬১ কেজি থেকে কমে ৩৮ কেজিতে নেমে আসে। এমনকি নিজের নবজাতক সন্তানকে কোলে নেওয়া বা বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিল না বিথী।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ছুটেছি। শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচাতে পারলাম না।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শরীফ ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, বিথী ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স হিসেবে পড়াশোনা শেষ করলেও কোথাও চাকরি করতেন না। তার মৃত্যু দুঃখজনক।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল হুদা ডেইলি স্টারকে বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবর শোনার পর আমি রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকসহ তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সাহায্য করা সম্ভব, আমরা করেছি।

মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বা অভিযোগ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটেছে। তাই এটা আমারা এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।

তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্ত করতে পারে। এছাড়া অভিযোগ পেলে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ড ডেইলি স্টারকে বলেন, বিথীর ঘটনায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার স্বামী আমাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে প্রধান করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

‘এছাড়া একটি মেডিকেল বোর্ডও গঠন করা হয়েছিল। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিথীর পেটে গজ দেখতে পান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৫ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়’, বলেন তিনি।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে মানস কৃষ্ণ বলেন, আজ বিথীর মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর কমিটির প্রধানের কাছে প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চেয়েছি। তিনি আরও সাত দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন।

Related Articles

Latest Posts